Sunday, March 25, 2018

স্বাধীনতা তুমি কার?

স্বাধীনতার সংজ্ঞা কী? অর্থ কী? স্বাধীনতা কিভাবে পায়? কে নেতৃত্ব দেয়? কে সফল করে? কিসের প্রত্যাশায় করে? কি প্রয়োজনে করে; কে বা কারা করে; তাদের পরিনতি কী? তারা কি পায় ? কি চায়? কি তাদের রাষ্ট্রীয় অবস্থান? কি তাদের আর্থ সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থান?
কেউ জানে না। কে ব্যাখ্যা দিতে পারবে না। দিলেও সে মন গড়া বানোয়াট ভিত্তিহীন মিথ্যাচারে ভরিপুর টক ঝাল মিষ্টি মেসানো সস্তা মূল্যের দ্রব্যসামগ্রীর মত বিজ্ঞাপনসম একান্তই ভ্রষ্টাচারে সমৃদ্ধ বাচালতা মাত্র।
বাঙ্গালী জাতির নৈতিক চরিত্রের এত অধঃপতন হয়েছে যার কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ভাষা খুজে পাওয়া যায়না।
ভারতেরও এমন কিছু অঙ্গরাজ্য রয়েছে যেখানে মানুষ আজ নিজেই জানে না তারা কি স্বাধীন নাকি পরাধীন? তারা কি মানুষ নাকি দক্ষিন আফ্রিকার গহীন অরন্যে প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বেড়ে ওঠা প্রাণীমাত্র?  ঠিক বাংলাদেশেও আজ তাই। অনাচার অবিচার অন্যায় জুলুম মানসিক ও দেহিক নিপীড়ন নির্যাতন স্বজনপ্রীতি দুর্নীতি মিথ্যাচার ভ্রষ্টাচার প্রতারণা জালিয়াতি জোচ্চুরি এতই সীমা লংঘন করেছে যে বাংলাদেশের প্রশাসনের প্রতিটি টেবল প্রতিটি চেয়ার, অফিসের প্রতিটি দরজা জ্বানালা ফ্যান পিয়ন দাড়োয়ান চাপরাশি কেরানী অফিসার সচিব মন্ত্রী কেউ নেই মিথ্যা কথা বলে না; কেউ নেই ঘুষ খায়না, কেউ নেই একজন প্রকৃত সাদা মনের মানুষ ঠিক জাতীয় ৪ নেতা ও জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার মত। তাই আর স্বাধীনতায় কোন স্বাদ নেই গন্ধ নেই ভালোবাসা নেই আগ্রহ নেই ইচ্ছেগুলো মিথ্যে মরীচিকার পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে হয়রান হয়ে থমকে দাড়িয়েছে ৬৫ টি বসন্তের শেষ দাড় প্রান্তে। Image may contain: 1 person
এত প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারে না ; দেয় না; দেবার প্রয়োজন পড়েনা কারন কেউ শেখ হাসিনার ধারে কাছেও যাবার সুযোগ পায় না।
সুযোগ পায় ওরা যাদের গাড়ী বাড়ী অবৈধ অর্থের পাহাড়। তাই বলে কি শ্যেখ হাসিনা অর্থের সংস্পর্শে সাক্ষাত প্রদান করেন? না ভাই এমন কথা বলবো না; তিনি তো জানেনও না যে তাঁর সাথে কে কি কারনে দেখা করবেন? এবং এই দেখা করার অন্তরালে কোন এক চামচ নিজের স্বার্থ আদায় করে নিয়ে নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎকারের সুযোগ করে দিয়েছে?
 



Saturday, March 24, 2018

"তালিকা বাড়ার পেছনে প্রথমত দায়ী অসত মুক্তিযোদ্ধারাই"

"তালিকা বাড়ার পেছনে প্রথমত দায়ী অসত মুক্তিযোদ্ধারাই"
সালেক খোকন

মেঘনা নদীর পাড়ে গৌরিপুর গ্রাম। নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার এ গ্রামেই জন্ম ইউনুছের। বাবা নাজির উদ্দিন চৌধুরী ব্যবসা করতেন ভৈরব বাজারে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর দুষ্টুমি ছিল আকাশছোঁয়া। স্কুল পালিয়ে নদী-তীরের বালিতে ফুটবল আর হা-ডু-ডু খেলেই কাটত সময়। গ্রামে আম ও কাঁঠালগাছ তেমন একটা ছিল না। কাঁঠাল পাকা গরমে ইউনুছ তাই দল বাঁধতেন বন্ধু আশরাফ, খায়ের, কুদ্দুস, লিয়াকত, শাহজাহানের সঙ্গে। আম-কাঁঠাল পেড়ে আনতেন পাশের দৌলতকান্দি, মহেষপুর, সাতমারা গ্রামের গাছগুলো থেকে। এ নিয়ে বিচার আসত ইউনুছের বাড়িতে। বাবা রাগ হতেন। কিন্তু তবুও ইউনুছের দুরন্ত মন কোনো বাধা মানে না।

ইউনুছ পড়তেন গৌরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যখন ক্লাস ফোরে তখনই রপ্ত করে ফেলেন বিড়ি-সিগারেট খাওয়া। একদিন হাতেনাতে ধরা পড়েন অংকের মাস্টার সুরুজ মিয়ার হাতে। ভয়ে ইউনুছ বন্ধ করে দেয় স্কুলে যাওয়া। ডানপিটে হলেও ওই মাস্টার তাকে খুব আদর করতেন। তিনদিন পর তাই নিজে গিয়ে ইউনুছকে স্কুলে নিয়ে আসেন। এসব কারণে ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন বাবা নাজির উদ্দিন। গ্রামে হাইস্কুল থাকা সত্ত্বেও প্রাইমারি পাশের পর ইউনুছকে তিনি ভর্তি করে দেন ভৈরব কাদিরবক্স হাইস্কুলে। ব্যবসার ফাঁকে বাবা ও চাচা আলতাফ হোসেন স্কুলে গিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন তাঁর।

তখন ভৈরব বাজার ছিল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ওখানকার বড় নেতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। আক্কাস সাহেব, সায়দুল্লাহ সাহেব তখন ছাত্র রাজনীতিতে। স্কুলের ওপর তলাতেই ছিল হাজী আসমত কলেজ। ফলে রাজনীতির পুরো হাওয়াটাই টের পেতেন ইউনুছরা। তখন পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলছেন শেখ মুজিব। ইউনুছদের বাড়ির পাশেই ছিল কোহিনুর জুট মিল। সেখানকার শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য, ইত্তেফাক পত্রিকা মারফত ইউনুছ জেনে যেতেন দেশের নানা খবরাখবর।

সময়টা ১৯৬৭। একবার শেখ মুজিব আসেন ভৈরবে। ভাষণ দেন ইউনুছদের স্কুল মাঠে। তাঁকে ফুল দেওয়ার দায়িত্ব পান ইউনুছরা। সেদিনই প্রথম খুব কাছ থেকে দেখেন এই মহান নেতাকে। স্টেজের পাশেই বসে শোনেন তাঁর ভাষণ। শেখের কন্ঠ উত্তাল করে দেয় ইউনুছের মনকে। দেশের টানে সেই থেকেই তিনি পথে নামেন। স্লোগান তুলে ঐক্যবদ্ধ করেন সবাইকে। শেখ মুজিবের একটি ভাষণ এভাবেই বদলে দেয় ইউনুছের জীবনের গতিপথকে।

ছোটবেলার নানা ঘটনার কথা শুনছিলাম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো.ইউনুছ চৌধুরী(ইনু)-র মুখে। চার ভাই ও তিন বোনের সংসারে তিনি সবার বড়। মা জোবেদা খাতুনের আদরেই কাটে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। একাত্তরে ইউনুছ ছিলেন এসএসসি পরিক্ষার্থী।

সত্তরের নির্বাচনে ইউনুছরা কাজ করেন নৌকার পক্ষে। ৭ ডিসেম্বর এমএনএ এবং ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ ছিল প্রাদেশিক পরিষদের এমপিএ নির্বাচন। নৌকা প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন ভূইয়া এমএনএ এবং এমপিএ নির্বাচিত হন রাজু উদ্দিন আহম্মেদ রাজু।

কথা ওঠে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা মো.ইউনুছ চৌধুরী বলেন, ‘ভাষণ শুনতে ওইদিন ভোরে ট্রেনের ছাদে উঠে আমরা চলে আসি কমলাপুর রেলস্টেশনে। সঙ্গে ছিলেন আব্দুস সামাদ, জিয়াউল হক, আশরাফসহ আরো অনেকে। কমলাপুর থেকে হেঁটে পৌঁছি রেসকোর্স ময়দানে। পিঁপড়ার মতো বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসছিল। গাছগাছালি তখন ছিল না। রেসকোর্সের পুরো মাঠই ছিল লোকে-লোকারণ্য।’

‘সবার দৃষ্টি বঙ্গবন্ধুর দিকে- নেতা আজ কি বলবেন? বিকেলের দিকে বঙ্গবন্ধু ভাষণ শুরু করলেন। শেষে বললেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’ আমাদের কাছে ওটাই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা।’

ফিরে গিয়ে আপনারা কি করলেন?

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমতো আমাদের গ্রামেও সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। জিয়াউল হক, আব্দুস সামাদ, কাঞ্চন ছিলেন কমিটিতে। আমরা লাঠিসোটা নিয়ে তৈরি থাকি। ২৫ মার্চ ঢাকায় আর্মি নামার খবর পাই লোকমুখে।

পহেলা এপ্রিল থেকে প্রতিরোধযুদ্ধ হয় ভৈরবে। এর নেতৃত্বে ছিলেন কেএম সফিউল্লাহ, হেলাল মোর্শেদ, নাজিম সাহেব, ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান প্রমুখ। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের শেলের আঘাতে তাঁরা টিকতে পারে না। ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাদের হেলিকপ্টার নামে চর চারতলা ও গৌরিপুরে। তারা ক্যাম্প বসায় কোহিনুর জুট মিলে। পরদিন জ্বালিয়ে দেয় ভৈরব বাজার এলাকাটি।

ট্রেনিংয়ের কথা উঠতেই ইউনুছ বলেন, ‘মে মাসের প্রথম সপ্তাহের কথা। নৌকায় করে চর চারতলা পার হয়ে আড়াইশি তলার ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমরা পৌঁছি চানপুর গ্রামের সামসু মিয়ার বাড়িতে। তিনিই সবাইকে সীমান্ত পার করিয়ে দিতেন। সেসময় ওপার থেকে ধনমিয়াসহ পরিচিত কয়েকজন ফিরে এসে খাবারের কষ্টের কথা বলেন। আমরা গৃহস্থের ছেলে। পোকাধরা ভাত কিভাবে খাব? এসব চিন্তা করে আমিও ফিরে আসি বাড়িতে। কিন্তু বন্ধু আশরাফসহ বাকিরা চলে যায় মুক্তিযুদ্ধে। পরে আমার নিজেকে খুব অপরাধী মনে হতে থাকে।’

আবার ট্রেনিংয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কোন সময়ে?

মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনারা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছিল। যুবকদের পেলেই গুলি করত। এসব দেখে আমরা ঠিক থাকতে পারি না। জেঠাতো ভাই শহীদুল্লাহ, দৌলতকান্দি গ্রামের ফুলমিয়াসহ পরিকল্পনা করি মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার। কিন্তু সঙ্গে কিছু টাকা নিতে হবে। কিভাবে পাই? পাকিস্তানিদের ভয়ে ভৈরবের ব্যবসা তখন চলে আসে আমাদের গ্রামে। বাবার কাছ থেকে পুঁজি নিয়ে রায়পুরা থেকে সিগারেট এনে আমরা কিছুদিন পাইকারি বিক্রি করতাম। কিছু টাকা জমতেই ৫ জুন সকালে রায়পুরা যাওয়ার কথা বলে আমরা ঘর ছাড়লাম।’

কোথায় ট্রেনিং করলেন?

‘দৌলতকান্দি পার হয়ে সুলতানপুর বাজার হয়ে আমরা বিশ্বরোডে উঠি। সেখানেই প্রথম শুনি রাজাকার শব্দটি। বাঙালি কয়েকজন যুবক অস্ত্র হাতে পাহারা দিচ্ছিল সীমান্তের রাস্তাটি। পরে আমরা আখাউড়া সীমান্ত পার হয়ে চলে আসি ভারতের আগড়তলায়। ৫ জুন রওনা দিয়ে ১১ জুন সেখানে পৌঁছি। কংগ্রেস ভবনে ২-৩দিন থাকার পর আসি হাপানিয়া ক্যাম্পে। ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন ভুঁইয়া। সেখান থেকে আসি দুর্গা চৌধুরীপাড়া এবং পরে গোকুলনগর ট্রানজিট ক্যাম্পে। সেখানে কয়েকদিন লেফট-রাইট করিয়ে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় লায়লাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে। আমার এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার) নং ছিল ৯৩৪৩৩।’

মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছের সঙ্গে আমাদের আলাপ জমে ওঠে। তাঁর মুখে শুনি ট্রেনিংয়ের সময়কার একটি ঘটনা। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের ২৮ দিনের ট্রেনিং করায় ভারতের গুর্খা রেজিমেন্ট। ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন রবীন্দ্র শিং। আমাকে খুব আদর করতেন তিনি। যেদিন গ্রেনেড থ্রোর ট্রেনিং হচ্ছে, সেদিন আমার সঙ্গে বান্কারে ছিলেন ক্যাপ্টেন সাহেব নিজেই। গ্রেনেড থ্রো করেই আমি বান্কারে মাথা লুকাই। তিনি তখন আমার চুল ধরে মাথা তুলে বললেন, গ্রেনেডের দিকে তাকাও। গ্রেনেডের চারপাশে যখন ধোঁয়া উড়ছিল তখন তিনি আমাকে ডাউন করে নিজেও ডাউন হন। তাঁর কাছ থেকে সেদিন শিখেছি ধোঁয়ার আগে মাথা লুকালে বিপদ হতে পারে। শক্র চাইলে গ্রেনেডটা উল্টো আমার দিকেই থ্রো করতে পারে। এরপর গ্রেনেড থ্রোতে আমার এতটুকু ভুল হতো না।’

কোথায় কোথায় যুদ্ধ করেন?

তিনি বলেন, ‘ট্রেনিং শেষে আমাদের শপথ ও অস্ত্র দেওয়া হয় তিন নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার হেজামারায়। প্রথম সেটি ছিল মনতলায়। পরে স্থানান্তর করে হেজামারায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে আমরা বাংলাদেশের ভেতরে কসবা এলাকায় ঢুকে আক্রমণ করে আবার সরে পড়তাম। আমরা ছিলাম গেরিলা। আক্রমণ করতাম হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতিতে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমরা আসি নারায়পুর লক্ষ্মীপুরে। সেখানে ৬৫ জনের একটি ক্যাম্প তৈরি করি। আবুল কাশেম ভুঁইয়া ছিলেন গ্রুপ কমান্ডার। পরে ছোট ছোট আরও গ্রুপ আমাদের সাথে যুক্ত হয়। আমরা অংশ নিই সম্মুখযুদ্ধে।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় এক অপারেশনে স্প্রিন্টারের আঘাত লাগে ইউনুছের কপালে। এছাড়াও তাঁর মাজা, হাত ও পা ফ্র্যাকচার হয়ে যায়। সেই দিনের রক্তাক্ত অপারেশনটির কথা শুনি তাঁর জবানিতে। তাঁর ভাষায়, ‘১০ ডিসেম্বর ১৯৭১। দুপুর বেলা। ভৈরবে তখনও ছিল পাকিস্তানি সেনারা। রামনগর ব্রিজ পেরিয়ে তারা আমাদের দিকে অ্যাডভান্স হতে চায়। ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপরে ছিল ব্রিজটি। আমরা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে রামনগরে পজিশন নিই, ওরা ব্রিজের উত্তরে ভৈরব অংশে। থেমে থেমেই গোলাগুলি চলছিল। সন্ধ্যা হয়-হয়। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে ওপারে যাওয়ারও চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের আর্টিলারির আঘাতে এগোতে পারে না। রেল-ব্রিজ দিয়ে ওপারে যেতে পারলেই ওদের ওপর সহজে আক্রমণ চালানো যাবে- এই পরিকল্পনা করে আমরা একটি দল ব্রিজের ওপর দিয়ে এগোতে থাকি। হঠাৎ একটা বুলেট আমার কানের পাশ দিয়ে শোঁ করে চলে যায়। পেছনে তাকাতেই দেখলাম গুলিটি গিয়ে লেগেছে সহযোদ্ধা আবু হানিফের গায়ে। ও ছিটকে পড়ল। আমরা তবুও থামি না।


মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ চৌধুরীর কপালে আঘাতের চিহ্ন
পাকিস্তানি সেনারা তখন ভৈরব বাজার থেকে অনবরত শেল মারতে থাকে। একটা শেল আইসা পড়ে ব্রিজের ওপর আমার সামনে। বিকট শব্দে নড়ে ওঠে ব্রিজটি। একটি স্পিøন্টার এসে লাগে আমার কপালে। আমি টের পাই না। হাত দিতে দেখি রক্ত। ব্রিজটি তখন নড়ছিল। আমি আর নিজেকে সামলে নিতে পারি না। ঝাঁকুনিতে পড়ে যাই একেবারে নিচে। চুপসা পানিতে ছিল পাথর। ফলে আমার মাজা, হাত ও পা ফ্র্যাকচার হয়ে যায়। পড়েই আমি জ্ঞান হারাই। যখন জ্ঞান ফেরে তখন আমি ক্যাম্পে। আমার সারা শরীর প্লাস্টারে আবৃত।’

স্বাধীনের পর চিকিৎসার জন্য ইউনুছ চলে আসেন ঢাকায়। বহুকষ্টে ১৯৭২ সালে সিটবেডে এসএসসি পরীক্ষা দেন। বাধা সত্ত্বেও চালিয়ে যান লেখাপড়া। ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ইউনুছ ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে। ১৯৮৫ সালে তিনি মাস্টার্স অব ডেমোগ্রাফিতে পাস করেন। পরে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কথা ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রসঙ্গে। মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ বলেন, ‘আমাদের গ্রাম থেকে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল ৩৪ জন। কিন্তু তালিকায় এ সংখ্যা আরও বেশি। কিভাবে হলো? শ্বশুর ছিল থানা কমান্ডার তাই জামাই পেয়ে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের সনদ। যুদ্ধের পর পরই এ তালিকা চূড়ান্ত করা উচিত ছিল। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ছিল প্রতি সেক্টরে। রাজনৈতিক কারণে এখনো বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা। এখন একটি ফরমে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষীর নাম ও স্বাক্ষর থাকলেই মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়। টাকার বিনিময়ে সহজেই মিলে এই স্বাক্ষর। তাই তালিকা বাড়ার পেছনে প্রথমত দায়ী মুক্তিযোদ্ধারাই। স্বাধীনতা লাভের পর অনেক মুক্তিযোদ্ধাই সততাকে ধরে রাখতে পারেনি।’

রাজাকার প্রসঙ্গে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় দৌলতকান্দিতে মহিউদ্দিন ভুঁইয়া হাইস্কুলের পাশে রামনগর গ্রামে আমরা ১৯ জন রাজাকারকে গুলি করে মারি। ওরা কাজ করত পাকিস্তানিদের সহযোগী হিসেবে। একবার আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া যেতে এক গ্রামে কয়েকজন রাজাকার আমাদের কাছে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব করে। এ নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেও গোলাগুলি হয়। ৩ জনকে মেরে ৬জন আসে আত্মসমর্পণ করতে। পরে আমরা তাদের রান্নাবান্নার কাজে লাগাই।’

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আলবদরদের বিচার ও ফাঁসিতে বুকে জমানো চাপা কষ্ট লাঘব হয়েছে এ সূর্যসন্তানের। রাজাকারদের বিচার নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস তাই অকপটে জানান নিজের মতামতটি। তাঁর ভাষায় ‘স্বাধীনের পরই এদের বিচার করা উচিত ছিল। বঙ্গবন্ধু তা শুরুও করেছিলেন। সে সময় কুষ্টিয়ার রাজাকার চিকন আলীর ফাঁসির আদেশও হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় ৩৭ হাজার ৪৭১ জন রাজাকারকে। পরবর্তীতে ৭৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমার কারণে ২৫ হাজার ৭১৯ জন ছাড়া পেলেও আটক প্রায় ১১ হাজার রাজাকারের বিচার তখনো চলছিল।’

তবে কেন বিচার হলো না? উত্তরে তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। তিন মাসের মাথায় জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই দালাল আইন বাতিল করেন। ফলে অভিযুক্ত, এমনকি দণ্ডিত ৭৫২ জনকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সে-সুযোগে মুক্ত হয় রাজাকার চিকন আলীসহ অনেকেই।’

স্বাধীন দেশের রাজাকার হয় প্রধানমন্ত্রী। ওই সময়কার একটি ঘটনার কথা বলেন ইউনুছ।

“জিয়া তখন প্রেসিডেন্ট। আমাদের ডাকা হয় বঙ্গভবনে। প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজ এগিয়ে আসে আমাদের সঙ্গে হাত মিলাতে। ‘রাজাকার’ বলে চিৎকার দিয়ে আমরা তাকে মারাত্মকভাবে অপদস্ত করি। পরে জিয়া এসে আমাদের থামান। ওইদিন বলেছিলাম, রাজাকারের সঙ্গে হাত মিলালে সে আর মুক্তিযোদ্ধা থাকে না।”


পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ চৌধুরী
দেশ কেমন চলছে?

মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘দশ বছর আগে যে দেশ ছিল সে দেশ এখন নেই। অনেক উন্নতি হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, দেশ এগোচ্ছে উন্নতির পথে। এটা অস্বীকার করার উপায় তো নেই। কিন্তু বিএনপি বলছে দেশে কোন উন্নতি হয়নি। অথচ তারাই এখন অনলাইনে তারেক জিয়ার ভিডিও বার্তা শোনেন। ভোগ করছি সুবিধা। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে উন্নতিটা বলছি না। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

কী করলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে?

মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছের উত্তর, ‘ব্যাংক লুটের সঙ্গে যারা জড়িত তারা যে দলেরই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ এর কারণে সরকারের সফলতা ম্লান হয়েছে। দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হতে হবে। মানুষের মাঝে নানা তথ্য তুলে ধরে সচেতন করতে হবে। দেশপ্রেম জাগাতে হবে। তাহলেই দেখবেন দেশ সোনার বাংলা হবে।’

বর্তমান সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের এক ধরনের আপসকে এই যোদ্ধা দেখেন ভিন্ন দৃষ্টিতে। তাঁর ভাষায়, ‘সরকার যেমন হেফাজতকে সুবিধা দিতে পারে তেমনি প্রয়োজনে তাদের ধরার ক্ষমতাও রাখে। তাই তাদের সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখাটা সঠিক সিদ্ধান্তই হয়েছে। এখন ভারতপ্রীতি মানেই আওয়ামীপ্রীতি এটা বলা যাবে না। তবে মুসলমানদের মধ্যে যারা পাকিস্তানপ্রেমী তাদের বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। কারণ তাদের হাত ধরেই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে পারে।’

স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভালোলাগার অনুভূতি জানতে চাই আমরা। উত্তরে এই বীর বলেন, ‘যখন দেখি কণ্ঠ আকাশে তুলে নতুন প্রজন্ম জয় বাংলা স্লোগান তুলছে তখন মনটা ভরে যায়। রাজাকারদের বিচারের জন্য গণজাগরণ মঞ্চের তরুণরা যখন আন্দোলন গড়ে তোলে, তখন বুকটা ভরে ওঠে।’

খারাপ লাগা জানাতে মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা পাইছি কিন্তু মুক্তি পাই নাই। অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো হয়নি। আমাদের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-নেতারা টাকা কামানোর কথা চিন্তাও করত না। বরং নানাভাবে সাহায্য করত গরিব ছাত্রদের। এখন পাতিনেতারাও কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এসব দেখলে সত্যি কষ্ট লাগে। নেতাদের মধ্যে তো দেশপ্রেম নাই। তাহলে দেশ এগোবে কিভাবে ?’

দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের। তাই তাদের প্রতি আশা নিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ চৌধুরী বলেন, ‘তোমরা লেখাপড়া করে নিজেকে তৈরি করো। মানসিকভাবে সবসময় ভেবো কাজের মাধ্যমে তোমরা এ দেশটাকে কী দিচ্ছ। শুধু নিজের স্বার্থের কথা ভেবো না। লোভে না পড়ে দেশের জন্য কিছু করো। মনে রেখো, এ দেশটার কাছে আমরা সবাই দায়বদ্ধ।’

সংক্ষিপ্ত তথ্য

নাম : যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ চৌধুরী (ইনু)।

ট্রেনিং নেন : ভারতের লায়লাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে।

এফএফ নং : ৯৩৪৩৩।

যুদ্ধ করেন : তিন নম্বর সেক্টরের অধীন প্রথমে কসবা এলাকায় এবং পরে নারায়পুর লক্ষ্মীপুরে অপারেশন করেন। আবুল কাশেম ভুঁইয়া ছিলেন গ্রুপ কমান্ডার।

যুদ্ধাহত : ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১। দুপুর বেলা। ভৈরব ব্রিজের কাছে এক অপারেশনে স্প্রিন্টারের আঘাত লাগে তাঁর কপালে। এছাড়াও ব্রিজ থেকে পড়ে তাঁর মাজা, হাত ও পা ফ্র্যাকচার হয়ে যায়।

চোর আহাদ চৌধূরী এবং আকাইম্মা মোজাম্মেল হক গং

ধরে নিলাম 'লালবই' বোখারী শরীফের মতই সহি কিতাব, তাহলে হাজার হাজার আসল মুক্তিযোদ্ধা বাদ গেল কেন? ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা না হয় স্থানীয় নেতা মন্ত্রী বা কমান্ডারদের দুর্নীতির কারনে হয়েছে; বাদ কেন যাবে? মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এতগুলো কর্মকর্তা কর্মচারী কি গরুর ঘাস কাটার জন্য বেতন দেয়া হয়?
ক। মন্ত্রণালয় খ। কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল গ। জামূকা ঘ। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট , আর কতগুলি সংস্থা লাগবে মাত্র হাতে গোনা ৩ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়ন করতে? জনগণকে মূলা দেখাচ্ছেন আহাদ চৌধূরী আর মোজাম্মেল হক সাহেবগণ?
মন্ত্রণালয়/ কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল আর জামূকার অফিসের এ/সি রুমে বসে টাকা পকেটে ঢুকাতে বড় মজা না? সারা দেশের কোথায় কোন গ্রামে কোন ইউনিয়নে কোন থানার কোন হতভাগা মুক্তিযোদ্ধা পয়সা দিতে পারে নাই বা সময়মত কমান্ডারকে খুশি করতে পারে নাই অথবা দেশে ছিলনা; তাদের খোজ খবর নেবার কোন ব্যবস্থা করেছিলেন আহাদ চৌধূরী সাহেব? বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে আপনি আর মোজাম্মেল হকরা কত দিন খাবেন? ৭২ ৭৩ ৭৪ থেকে আপনাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। মনে রাখা উচিত গাজী গোলাম মোস্তফার কম্বল চুরি বিশ্বের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছিল; বঙ্গবন্ধুকে ডুবাতে ঐ একটি কম্বলই যথেষ্ঠ ছিল ঠিক তেমনি শেখ হাসিনাকে ডূবাতে আপনাদের মুক্তিযুদ্ধের তালিকাই যথেষ্ঠ। Image may contain: 4 people, text
যে দেশের প্রশাসন বা সরকার সামান্য ২ লক্ষ বা ৩ লক্ষ আসল মুক্তিযোদ্ধা খুজে বেড় করতে পারে না বা সঠিক নির্ণয় নির্ধারণে ব্যর্থ, তাদের তো ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই; তারা জামাত বি এন পি জোটের থেকে কোন অংশে কম নয়।
দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা প্রতিমাসে বেতন দিয়ে রাখা এতো বাহিনী থাকতে ( এসবি/ডিবি/সি আই ডি/এন এস আই/ পুলিশ/আনসার/ র‍্যাব/ সেনাবাহিনী/ নৌ বাহিনী/ বিমান বাহিনী /দুদক) সঠিক তদন্ত করে আসল মুক্তিযোদ্ধাদের নামের সামান্য ক্ষুদ্র একটি তালিকা প্রণয়ন করতে যে জাতি পারে না; তাদের মূখে বড় বড় লম্বা সুদীর্ঘ চাপাবাজি, মাইক ফাটিয়ে জনতাকে প্রতারনা ভেলকী মিথ্যাচার; প্রতিদিন এক এক নতুন আইন/বিধি জারি করে নিরীহ গরীব হতদরিদ্র্য দীনহীন অশিক্ষিত বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি করতে আহাদ চৌধূরী আর আকাইম্মা মোজাম্মেল হকদের লজ্জা করে না?
আল্লাহ তায়ালা কি ইমান আমান বলে কিছুই ওদের দেয়নি? হে আল্লাহ এই ভন্ড প্রতারক মিথ্যাবাদী চাটূকর দুর্নীতিবাজ স্বার্থান্বেষী জনতার প্রতিনিধি হিসেবে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে'তুমি মহা মহিন হে পরোয়ার দিগার, তুমি বিচার কর; তুমি এদের হেদায়েত কর; রক্ষা কর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলার চির নিস্পেষিত লাঞ্ছিত বঞ্চিত অবহেলিত নির্যাতিত বাঙ্গালীদের । রক্ষা কর শেখ হাসিনা/রেহানাকে, রক্ষা কর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার মানচিত্র ও লাল সবুজ পতাকাকে ।

Sunday, July 23, 2017

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেমুক্তির খোলা চিঠিঃ

come to mukthi and learn the truth
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেমুক্তির খোলা চিঠিঃ 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি বিশেষ্য বিশেষন দিয়ে তোষামোদি করতে জানিনা। তাই সরাসরি আমার কিছু না বলা কথা এবং কিছু হতভাগা মুক্তিযোদ্ধাদের করুন ইতিহাস আপনার সদয় অবগতির জন্য মিডিয়ার সাহায্য নিতে বাধ্য হলাম।
আপা, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুজিবনগরে প্রশিক্ষণ নেয়া যোদ্ধা।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২রা মার্চ জাতিরজনক বংগবন্ধু/বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজুদ্দিন আহমেদ একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই ১০ মিনিটের নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকুরী প্রদান করেছিলেন। ৭ দিন কি ৮ দিন পায়ে হেটে না খেয়ে মুজিবনগরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নেশায়।
 এ নেশা সাড়ে সাত কোটি মানুষের রক্তে মাংসে অস্তিত্বে মগজে সেলের মত বিধেছিল ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ "পশ্চিমা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে হবে"
 জাতিরজনকের এই উদাত্ত আহবানে সারা দেয়া কী ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? তাই আমি মুক্তিযোদ্ধা। নামবিহীন অস্তিত্ববিহীন মুক্তিযোদ্ধা! নাম বদলে দিলাম। মোঃ মোকতেল হোসেন থেকে নাম বদলে হয়ে গেলাম মোকতেল হোসেন মুক্তি।
পরবর্তীতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ১৩ই এপ্রিল ১৯৭২ সালে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হলে মাদারীপুরের কৃতি সন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খাদ্যমন্ত্রী প্রয়াত ফনি ভূষন মজুমদারের অনুস্বাক্ষরে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবীল থেকে এক হাজার টাকার অনুমোদন (মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসক অফিসে) এবং ৩ বান ঢেউ টিন প্রদান করেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের রেকর্ডে একজন মুক্তিযোদ্ধার কোটায় আমার চাকুরী হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের সচিবালয়ে আমিই ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলাম। আমার ডিউটি ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার ফুফা, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি, সাবেক চীপ হুইপ আলহাজ্ব হাসনাত আব্দুল্লাহ সেরনিয়াবাত এর গর্বিত পিতা, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ভাইয়ের শ্বশুর, সাংসদ ব্যারিষ্ঠার তাপসের নানা সাবেক কৃষক লীগের সভাপতি ভুমি মন্ত্রী ও পরবর্তীতে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায়।
ইতিহাসের ঘৃণ্য কালো অধ্যায় ১৫ঈ আগস্টের মধ্যযূগীয় বর্বর হত্যাকান্ডের লাশ দেখে আমি পাগল হয়ে যাই। পিজি হাসপাতালে আমার ৩ মাস চিকিতসা চলে এবং সে তিন মাসের বেতন ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তন করে। এ কথা সকলেই জানেন।
আমি ভারতের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার ঘরের সব কাগজপত্র আমার ভাইদের শিক্ষার সনদ, জমির দলিল দস্তাফেজ সমূহ সব মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ছিড়ে ফেলি। আমার পরিবারের সব আমি ধংস করে ফেলেছিলাম। ভুমি মন্ত্রনালয় তার প্রমান।
আমি মন্ত্রীকে এসব কথা বলাতে আমাকে অপমান করতে পারেন না। আমি প্রবাসে থাকি। আমাকে আবেদনের সুযোগ না দিয়ে অপমান করার অধিকার মন্ত্রীর নাই। তিনি আমার দরখাস্ত গ্রহন করা ও না করার অধিকার রাখেন কিন্তু মেজর জেনারেল সুবিদ আলীর নির্দেশে  আমাকে অপমান করতে পারেন না। তিনি আমার আবেদনে লিখেছেন
“যেহেতু আবেদনকারী বহুবার দেশে এসেছিলেন এবং আবেদন করেন নি তাই তার আবেদন গ্রহন করা গেল না”
তিনি মেজর জেনারেল সুবিদ আলীর শিখানো কথা মত বললেনঃ ৪৫ বছর পরে মুক্তিযোদ্ধা হতে এসেছে। বের করে দেন”। 
আমি মুক্তিযোদ্ধাই নই, একজন সক্রিয় আওয়ামি যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া আমার জীবনে অন্য কোন বিষয় কাজ করেনি এবং এ মুক্তিযুদ্ধ বংগবন্ধ ও আওয়ামী লীগই আমার ধ্যান ধারনা চিন্তা চেতনা আদর্শ এ কথা প্রমান করে আমার ৬০ হাজার প্রায় লীফলেটস, ব্যানার ও পোষ্টার এশিয়ায় ইন্টারনেট চালু হবার পর থেকেই কার বিনা প্ররোচনায় করে এসেছি। শুধু তাই নয় আমি ২০০ ওয়েব সাইট ও ব্লগ মেইনটেইন করি যা’শুধু যুদ্ধাপরাধী মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত। এ সকল ছবি ও ব্লগ/ওয়েবসাইটগুলোই প্রমান করে যে আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রীতিমত একজন বদ্ধ উন্মাদসম গবেষক।Just write my name on the google search engine where you’ll get real Identity of mine “write Moktel Hossain Mukthi or muktimusician.এ ছাড়াও আমি একজন একনিষ্ঠ অনলাইন আওয়ামী যোদ্ধা। মালদ্বীপের বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, মালদ্বীপের মাটিতে আমিই সর্ব প্রথম মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু এবং পাকিস্তানের ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তৃতা প্রদান করে পাকিস্তান হাই কমিশনের মামলা খাওয়া একজন মালদ্বীপ সরকারের শিক্ষক।
 মন্ত্রী মহোদয় এ সব পরিচয় জানার পরেও বলেন নি যে আপনি বসেন বা কিছু বরং তাঁর আচার ব্যবহার এতই রুঢ় ছিল যা’ শিবির বা জামাতের কারো সাথে করছেন বলে অনুমেয়। আমার সাথে ভদ্র ভাষায় কথাও বলেন নি। এক পর্যায়ে জেনারেল সুবিদ আলীর কথায় তিনি আমাকে ঘাড় ধরে তাঁর কক্ষ থেকে বেড় করে দেয়ার কথা বলেন এবং অতঃপর.........।।
তিনি মন্ত্রী না হলে হয়তো সেখানেই কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতো। আমি আমার নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে চলে আসি।
আমার সহযোদ্ধারা এখনো অনেকেই বেচে আছেন। ড: গোলাপ আমার সাথের একই ক্যাম্পের যোদ্ধা। আওয়ামি যোদ্ধা। 
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী সব সময় প্রচন্ড মিথ্যা কথা বলেন। যা' মিডিয়া ও বক্তৃতায় বলেন, বাস্তবের সাথে তার কোন মিল নেই; তিনি যা বলেন সব মিথ্যা কথা মিথ্যা তথ্য। এখনো বহু আসল মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত করতে পারেনি অথচ তিনি বক্তৃতায় ঘোষনা করলেন সকল জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা রেকর্ড করা হবে। আসল অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামই সংগ্রহ করতে পারেন নি-তিনি কিভাবে এ ঘোষনা প্রদান করেন?
তার দেয়া সব তথ্য জাতিকে বিভক্ত করছে; মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কলঙ্কিত হচ্ছে। নতুন তালিকা প্রণয়নের নামে এগুলো প্রতারণা। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন। মিডিয়া, দেশবাসী এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রতারণা করছেন । দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজেলা ও জেলাসমূহে যে দুর্নীতি চলছে, যে সনদ ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের নামে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের বিগত বছরগুলোর সকল সফলতা এমন কি মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের যে অবদান সব মলিন হয়ে যাবে এই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীদের মত স্বজনপ্রীতি দুর্নীতি গ্রস্থ নেতা/কমান্ডারদের কারনে।
কারন আপনি আদর্শিক কারনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষন ও মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করছেন।  সমস্ত মন্ত্রী এম পি দের তৃনমূলের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। ক্ষমতা ও অর্থ সম্পদ শালী মধ্য শ্রেণীর নেতা যার মধ্যে অর্ধেকই প্রায় জামাত শিবির ও বি এন পি, তাদের সাথে তাল মিলিয়ে, হাত মিলিয়ে আমার মত পাগল ছাগল নিবেদিত ত্যাগি সৎ নিষ্ঠাবান অভিজ্ঞ উচিত কথাবলার প্রকৃত মুক্তিসেনাদের এভাবেই তারা অপমান তাচ্ছিল্য করে দূরে সরিয়ে রাখে। যে কারনে ছাত্রলীগের ছেলেদের সেনাবাহিনী নৌ বাহিনী বিমান বাহিনী পুলিশ বিজিবি ও অন্যান্য সরকারী ভালো পদে চাকুরী হয় না।
কারন ওরা ত টাকা দিতে পারবে না। দলীয় ছাত্র লীগের ছেলেদের নিকট টাকা চাইতেও পারে না; যদি আবার নেত্রীকে বলে দেয় বা জানিয়ে দেয়। তাই গোপনে আওয়ামী লীগের নেত্রীর বিশ্বাসী নেতাগন গোপনে চাকুরী প্রদান করে, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তির সুপারিশ ও তদবীর করে জামাত বি এন পির ছেলে মেয়েদের । কারন টাকা পাওয়া যাবে।
 উত্তরা ও এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় আমার বাস। আমার জানা মতে ঠিক আমারই মত ত্যাগি জীবনবাজী রেখে নৌকার জন্য ভোট সংগ্রহ কারীর একটি মেয়েকে বঙ্গ মাতা স্কুলে ভর্তির জন্য কি না করেছে? মায়া ভাই পর্যন্ত বিষয়টি জানতেন। সে মেয়েটি সুযোগ পায়নি; দেখা গেছে-ঢাকা এয়ারপোর্ট ও বিমানে চাকুরীরত জামাত বি এন পির ছেলে মেয়েরা অজানা রহস্যের কারনে সবাই সুযোগ পেয়ে গিয়েছে।
 এর নাম স্বাধীনতা? মুক্তিযুদ্ধ? আওয়ামী লীগ?
 এত সে বঙ্গবন্ধুর নৌকা ডুবানোর দুরদন্ত শয়তানী মাঝি খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চাষী মাহবুবুল আলম, নূরুল ইসলাম, কে এম ওবায়দুর রহমান তাহের উদ্দিন ঠাকুরদের চেয়ে একটূ কম নয়।
আমিই হলাম বাঙ্গালী জাতির মধ্যে সবচেয়ে কুলাঙ্গার। ধিক্রিত অবহেলিত লাঞ্ছিত মূর্খ বেয়াকুপ বেয়াক্কেল আহাম্মদ বোকা গাধা । না পারলাম প্রাণ খুলে হাসতে না পারলাম দুটি কন্যা সন্তানকে প্রাণ খুলে হাসতে। কি লাভ হল? এ স্বাধীনতায়? যে স্বাধীনতা আমার অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেয় না; সে স্বাধীনতাকে আমি কেন স্বীকৃতি দেব? রাষ্ট্রই যদি আমাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়, আমি কেন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবো? কেউ দেবে না। এটাই নিয়ম, এটাই লজিক। জানি আমি এতে হবো রাষ্ট্রদ্রোহী। তাও মন্দ কী? একটা কিছু ত হবো? আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘাড় ধরে বেড় করে দেয়?? এ স্বাধীনতার অর্থ কী? কেন পেলাম? কি আশায় স্বাধীন হলাম? কিসের নেশায় নৌকা নৌকা মুজিব মুজিব করে জীবনের শেষ অবস্থানটুকুকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে নির্বাসিত হলাম এই দ্বীপ রাজ্য মালদ্বীপে । ভুল কোথায়? ভুল তো আছেই হয়তো জানিনা জীবনের কোথায় কোন সিদ্ধান্তে বড় রকমের ভুল ছিল। তাই ভুলের মাশুল দিয়ে গেলাম ৬৫ বছর বয়সের মুক্তিযোদ্ধা মোকতেল হোসেন মুক্তি।
ভুল তথ্য দিচ্ছেন। এর সমাধান চাই। এর একটি পরিস্কার ব্যাখ্যা চাই; সত্যের জয় হবে; তাই চাই; জাতিরজনকের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের নিয়ে রঙ তামাশা করবে; মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারণের নামে ব্যবসা করবে, এর জন্য যুদ্ধে যাইনি, এর জন্য ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী শহীদ হয়নি; এর জন্য ২ লক্ষ ৪০ হাজার মা বোনের ইজ্জত হারায়নি। আসল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাই করতে ব্যর্থ মোজাম্মেল হক।
এই মিথ্যাচারের জন্য আল্লাহ্‌ বিচার করবেন রোজ হাসরের দিন। মহান আল্লাহর বিচারে কারো হাত নেই। আল্লাহর উপরে কোন মন্ত্রী নেই; আল্লাহর উপরে বিচারক নেই; রোজ হাসরের থেকে শক্তিশালী ক্ষমতাবান কোন আদালত নেই। বহু আসল মুক্তিযোদ্ধা এখনো তালিকার বাইরে এবং এ সমস্যা আগামী ১০০ বছরেও কোন সরকার সমাধান করতে পারবে না। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কথা রেকর্ড হবে ।
মন্ত্রী নিজেও জানে না যে উপজেলা জেলা গুলোতে এই তালিকা নিয়ে কি পরিমান টাকার ছাড়াছড়ি চলছে? কি পরিমান ব্যবসা করছে নব্য থানা কমান্ডারগণ। এমন কোন উপজেলা নেই যেখানে সত্যকারের মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে নাই এবং ভূয়া মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী মন্ত্রীর ক্ষমতা বলে নয়তো এম পির ক্ষমতা বলে অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্ষমতা বলে নতুন তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এমন প্রমান আমার গ্রামে আমার ইউনিয়নে রয়েছে। আমি ত অন্যের ক্কথা শূনে এ সব লিখিনি ভাই।ফুরিয়ে যাচ্ছে ৭১ এর সোনার ছেলে মেয়েরা, বেচে থাকবে শুধু ৭১ এ জন্ম নেয়া নব্য মুক্তিযোদ্ধারা, যারা লক্ষ টাকায় মুক্তিযুদ্ধের সনদ কিনে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। আমরা মুজিবনগরে (ভারতে) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এর চেয়ে বড় পরিচয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপ ভারতের চাদপাড়া এবং পরবর্তীতে ব্যারাকপুর মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং আমরাও একই সময়ে একই শিবিরে একই কমান্ডারের অধীন প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা। ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপের নাম যদি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তালিকায় থাকতে পারে, তবে আমাদের নাম থাকবে না কেন? শুধু আমরা নই, সারা বাংলাদেশে বহু অখ্যাত অপরিচিত অশিক্ষিত অজো পাড়া গায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। বহু মুক্তিযোদ্ধা ইতোমধ্যেই পরলোকগমন করেছেন, কোন স্বীকৃতি ও সুযোগ সুবিধা ভোগ না করেই তারা চলে গেছেন বাঙ্গালী জাতিকে মহান স্বাধীনতা প্রদান করে। তাদের নাম কে তালিকাভুক্ত করবে? কেন একটি সঠিক তদন্ত কমিটি কর্তৃক সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়নি? এ প্রশ্ন সরকার ও দেশবাসীর কাছে। আমরা মনে করি মহান মুক্তিযুদ্ধের নেত্রিত্বদানকারী দল হিসেবে জাতিরজনক বংগবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের এ মহান দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের জীবদ্ধশায় সম্পন্ন করা উচিত। সবাই শেয়ার করুন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সত্যিকারে শ্রদ্ধা থাকে।
 আমার সার্টিফিকেট দরকার নাই। কোন ভাতার দরকার নাই। আপনি মুসলমান দাবী করলে আমি কেন করবো না? আমিওত নামাজ পড়ি? মন্ত্রী আমাকে অপমান করতে পারে না। তার চেয়ে আওয়ামী লীগের জন্য আমার অবদান সেই ৬৯ থেকে অদ্যাবধি তিল পরিমান কম নয়; বঙ্গবন্ধু আমাকে চাকুরী দিয়েছিলেন সচিবালয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। অমুক্তিযোদ্ধা ভাতা পায় এবং তা আওয়ামী লীগের আমলে এবং আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর স্বাক্ষরে কেন? আমার কি ইচ্ছে করে না যে আমার সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক। আমার সন্তানের কি ইচ্ছে করে না, তার বাবা মুক্কতিযোদ্ধা এ কথা অন্য দশজনের নিকট বলে গৌরব বোধ করতে? মন্ত্রীর ইচ্ছে মত চলতে পারে না; এ সব তথ্য নেত্রীর জানা দরকার। দেশ আজ কোন পথে যাচ্ছে? শেখ হাসিনা কি করতে চাচ্ছেন? আর তার সাঙ্গ পাংগ মন্ত্রী আমলারা কি করছনে? আওয়ামী লীগ কে এরাই ডুবায় আর বাংলার নিরিহ মানুষ খেসারত দেয়। আমার মাদারীপুরের আমার সহযোদ্ধা ভারতে প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধারা কেন তালিকায় এলো না? মন্ত্রী শাহজাহান খান সভাপতি, সেখানেও দেখলাম সব মিথ্যাচার সব ভন্ডামী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তিনি হেসে হেসে গল্প করছেন আর কাগজ স্বাক্ষর করছেন। যারা ৭১ সালে জুন মাসে আমাদের লেফট রাইট দেখে পিটি প্যারেড দেখে টিটিকিরি দিয়েছে, তারা এসেছে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করতে এবং মন্ত্রী স্বাক্ষর করে দিলেন? দীদার ভাই@ আল্লাহ্‌র কছম, আমার সন্তান যদি আমাকে বাবা না বলে আমি সন্তান বলবো না, আমার পিতা মাতা আমাকে সন্তান হিসেবে স্বীকার না করলে আমিও করবো না। মহান স্বাধীনতা যদি আমাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি প্রদান না করে আমি কেন স্বাধীনতাকে মেনে নেবো? দেশ স্বাধীন করেছি আমরা, ফসল খাবে নবাগতরা; যে সংজ্ঞা আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন, সেটা আপনার ব্যাপার। আমি মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি; আমি বিজয়কে স্বাধীনতাকে মেনে নিয়েছি স্বীকার করেছি; আপনি স্বাধীনতা; আপনাকেও মেনে নিতে হবে আমি মুক্তিযোদ্ধা। নইলে ত দেশ স্বাধীনই হয়নি। স্বাধীনতা যদি আমাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকার না করে, আমি কেন স্বাধীনতাকে স্বীকার করবো? আমার অনেক কষ্ট অনেক দুঃখ । সে ১৫ই আগষ্ট থেকে দাউ দাউ করে জ্বলছি। কেউ জানেন না। নেত্রী কিছুটা জানেন। আমি মন্ত্রীকে দেখাবো, তিনি কি করবেন? ক্রস ফায়ার দেবেন, তাতে আমি আরো বিখ্যাত হব; বিশ্ব জানবে শেখ হাসিনার সরকারের উগ্র মেজাজী রগচটা মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাকে ক্রস ফায়ার দিয়ে মেরেছে। আমার সন্তানেরা আমার লাশ নিয়ে মিছিল করবে; আমি হব আরো জনপ্রিয়। এর পরেও আওয়ামী লীগ করি; কারন ওটা রক্তে অস্তি মজ্বজায় মিশে গেছে।
আজ যারা কালকিনিতে কমান্ডার বলে খ্যাত, এদের অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা নয়; এমন কি আমার ইউনিয়ন বাশগাড়ীর সকল মুক্তিযোদ্ধাদের আমার চেয়ে ত অন্য কেউ বেশী চিনে না, জানে না; এমন কি বাছাই কমিটির সভাপতি নৌ মন্ত্রী মোঃ শাহজাহান খানও তাদের চিনেন না। বিগত ১৮ই ফেব্রুয়ারী কালিকিনিতে বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই হল। আসল মুক্তিযোদ্ধারা এমন কি ব্যারাকপুর মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ কালীন কমান্ডার হানিফ মাহমুদ ( নিউজিল্যান্ড প্রবাসী ) এর নামও তালিকায় নেই যিনি চাদপাড়া রিসিপশন ক্যাম্পের সহকারী ইনুচারজ ছিলেন। হায়দার বেপারী যিনি স্বাধিনতাত্তোর বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং ৭১ সালে চাদপাড়া ক্যাম্পের ইনচারজ মাদারীপুর কালকিনি ৩ আসনের প্রথম এম পি (এম সি এ) বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এডঃ মতিউর রহমান (মতিভাই) র সাথে তার বাসায় থাকতেন এবং ক্যাম্প অফিসের কাজ করতেন। তার দরখাস্তও মাননীয় মন্ত্রী গ্রহন করেন নি;
বড় কষ্ট পেয়েছি; যারা মুক্তিযোদ্ধা নয়; তাদের সাথে মন্ত্রী মহোদয় হেসে কথা বললেন-গল্প করলেন, তাদের কাগজপত্র স্বাক্ষর করলেন আর যে আসল মুক্তিযোদ্ধা তাকে ফিরিয়ে দিলেন; সে কাদতে কাদতে ফিরে গেল; এ দুঃখজনক ঘটনা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খানের দ্বারা সংঘটিত হওয়ায় অবাক বিশ্বয়ে তাকিয়ে ছিলাম এবং লাল বই তে আমার নাম না থাকা সত্বেও আমি কথা বলেছিলাম। ওদের সমর্থন করেছিলাম।
মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিশেষ করে যারা বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করেছে এবং এখনো করছে, তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল সুযোগ সুবিধা পাবে, তাও আবার আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাকালীন এবং আপনার মত মাদারীপুর কাপানো আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর সামান্য ভুলের কারনে? এটা ঠিক কিনা? আপনি নিজেই অনুধাবন করুন। আমরা আপনার সুবিবেচনা সুবিচারের প্রত্যাশায় অধির আগ্রহে বসে থাকলাম।
তাছাড়া আঞ্চলিক সমস্যা গুলো আপনি সরাসরি না জেনে কিভাবে সমাধান করবেন? এ মহৎ কাজটি আপনার দ্বারাই সম্পন্ন করতে হবে। সে কারনে বর্তমান বাছাই পদ্ধতি সংস্কার করে পরিবর্তন করে সম্পন্ন করতে হবে। 
ভারতে প্রশিক্ষন নেয়া আমার সহযোদ্ধা অনেকেই আর বেচে নেই; তাদের পরিবার বঞ্চিত হল মহান স্বাধীনতার ফসল থেকে। এ কাজ যারা করেছে, তারা তাদের ইচ্ছে মত অর্থ নিয়ে ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় লিখে দিয়েছে। যে সমস্যা মাদারীপুরের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের কলুষিত করছে, সে সমস্যা কেন্দ্রীয়ভাবে সমাধান হবার নয়; যার যার জেলা উপজেলায়ই সমাধানযোগ্য।
আমার মুক্তিযোদ্ধা হবার সখ নেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ঐ আসল মুক্তিযোদ্ধা হতভাগাদের কি হবে? যারা ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের নাম মূখে আনেনি, তারা ভাতা পাচ্ছে, তাদের সংসার ভালো চলছে আর যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে গেল, যুদ্ধ করলো তাদের নাম নেই; এ কলঙ্ক এ ব্যর্থতা যে কোন ভাবেই হোক আওয়ামী লীগ সরকারের এবং  আপনার উপরই বর্তায় কারন আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান করেছিল।
আপনি আমাদের শেষ ।মহান আল্লাহ্‌ যেনো আপনার দ্বারা কোন ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহনের কলঙ্ক লেপন না করে। আল্লাহ্‌ আপনাকে সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের চিনহিতকরনে সহযোগিতা করুক।
আমরা মুজিবনগরে (ভারতে) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এর চেয়ে বড় পরিচয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার বিশেষ সহকারী ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপ ভারতের চাদপাড়া এবং পরবর্তীতে ব্যারাকপুর মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং আমরাও একই সময়ে একই শিবিরে একই কমান্ডারের অধীন প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা। ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপের নাম যদি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তালিকায় থাকতে পারে, তবে আমাদের নাম থাকবে না কেন?
শুধু আমরা নই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সারা বাংলাদেশে বহু অখ্যাত অপরিচিত অশিক্ষিত অজো পাড়া গায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। বহু মুক্তিযোদ্ধা ইতোমধ্যেই পরলোকগমন করেছেন, কোন স্বীকৃতি ও সুযোগ সুবিধা ভোগ না করেই তারা চলে গেছেন বাঙ্গালী জাতিকে মহান স্বাধীনতা প্রদান করে। তাদের নাম কে তালিকাভুক্ত করবে? কেন একটি সঠিক তদন্ত কমিটি কর্তৃক সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়নি? এ প্রশ্ন আমরা কাকে করবো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?  আমরা মনে করি মহান মুক্তিযুদ্ধের নেত্রিত্বদানকারী দল হিসেবে জাতিরজনক বংগবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের এ মহান দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের জীবদ্ধশায় সম্পন্ন করা উচিত।
আমার লজ্জা করে কাউকে বলতে যে আমাকে মন্ত্রী অপমান করেছে, তোমরা বিচার কর। তাই অনলাইনেই বিচার চাই। মোজাম্মেল আমাকে গায় হাত দেয়নি; মানসিক ভাবে প্রচন্ড আঘাত করেছে, যা'কোটি টাকায় শোধ হবে না; যা' রোজ কিয়ামতের আগ পর্যন্ত আমার অন্তর থেকে মুছবে না। সমাজ সংসার বন্ধু বান্ধব আত্মীয় পরিজন সবাই নিষেধ করছে=মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু না লেখার জন্য; ৭১ সালেও ত আমার মা মুক্তিযুদ্ধের নামে কোথায় গিয়ে মারা যাবো, তাই যাবার জন্য উন্মাদ হয়ে এখানে ওখানে ছটোছুটি করা দেখেই মা'বুঝেছিল, ছেলে আমার ভারতে যাবার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছে; সেই মায়ের নিষেধ অমান্য করে যখন ভারত যেতে পেরেছি; তখন মায়ের উপরে ত আর কোন আত্মীয় হয় না?
 তাই আপনার দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ অপমান করলে আপনি জাতিকে কথা দিয়েছেন; প্রতিবাদীদের সাথে আপনি আছেন। আমি আমার এ সংগ্রামে আপনার সমর্থন চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
ঘরের ইঁদুর বাধ কাটলে বাঁধ দিয়ে হয়রান হয়ে যাবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী;
আ ক ম মোজাম্মেল হক কে মন্ত্রী পরিষদ থেকে বরখাস্ত করে জাতিরজনক, মুক্তিযুদ্ধ ও মহান স্বাধীনতার গৌরবকে অক্ষুন্ন রাখুন; আপনার সমস্ত সফলতা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের ব্যর্থতার কালিমায় মলিন হয়ে যাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। 


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি মুক্তিযোদ্ধা হতে চাইনা কিন্তু আমার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী; ওরা গরীব-আমি ইনশাহ আল্লাহ্‌ গরীব নই; অনেক ধন সম্পদ নাম যশ যত সামান্য হলেও আমার দুইবেলা দুই মুঠো ভাত জোটে। কিন্তু নিভৃত পল্লীর অশিক্ষিত হত দরিদ্র্য মুজিব নগরের মুক্তিযোদ্ধা-ওরা মাসের ১০ হাজার টাকা ভাতা পেলে ওদের জীবন কত সুখের হতে পারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?
যাদের অর্থ আছে, তারাই কমান্ডারদে কিনে নেয়; নেতা নেত্রীদের বাসায় বড় ধরনের উপঢৌকন পাঠায়, তাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়ে যায়;
এ দুর্নীতি এ স্বজনপ্রীতি মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য, জাতিরজনকের জন্য আপনার জন্য সর্বোপরি সকল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের জন্য কলঙ্কিত অধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি ভাবিনা এত কিছু একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখবার পরে আমার কি হবে? ১৫ই আগষ্টের চেয়ে ভয়াবহ আর কিছুই হতে পারে না; যে আগষ্ট আমার চোখে দেখা। এতিম কচি খোকার মত ১৫ই আগষ্ট ঢাকার রাজপথে ঘুরে ঘুরে দেখেছি লাশের সমাহার; বদ্ধ পাগল হয়ে তিন মাস জেল খেটেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী;
তেজগাও থানার এস আই জাতিরজনক কে গালি দেয়ায় গভীর রাতে এফ ডি সি'র সমূখের রেললাইনে পিটিয়ে ১৪ দিন জেল খেটেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী; আমার হারাবার কিছু নেই; যেমন নেই আপনার। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম মোহিত আমার একান্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও বন্ধু ছিল। ১৫ই আগষ্ট রাতে ৩২ নং বাড়ীতে কর্মরত শহীদ এস আই সিদ্দিকুর রহমান আমাদের কোলকাতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষন দিয়েছিলেন। শুনেছি, তাঁর নামও নাকি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই।
সত্য কথা অনেক সময় মহা সংকট ও বিপদ ডেকে আনে, এ লজিক আমিও জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী; আমি আ ক ম মোজাম্মেল হক এর পদত্যাগ চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী;
এর জন্য ইন্টারনেটের কোন বিভাগ আমি বাকী রাখবো না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী; আপনার দৃষ্টিতে আমার এ আবেদন কোন না কোন ভাবে পৌছাবেই।

http://narrowpolitics.blogspot.com/
 http://mukthizcreation.wordpress.com/
http://bdawamileague.wordpress.com/
 http://creationofmukthi.blogspot.com
 http://misrulesofbnpjamat.wordpress.com/
 http://sheikhhasina.blog.com/
 http://skhasinawajed.blogspot.com
 http://deshratna.weebly.com
 http://bangladeshstudentleague.blog.com/
 http://daughterofthedemocracy.blogspot.com
 http://bangabandhuporisadmv.blogspot.com
 http://thegreatestbangalee.blogspot.com
 http://theburningnation.weebly.com/
 http://jathirpitha.wordpress.com
 http://skmujiburrahman.blogspot.com
 http://bangabandhu.weebly.com
 http://bangabandhuporisad.webs.com/
 http://bangabandhu.webs.com
 http://august75tragedy.blogspot.com
 http://thefatherofnation.blogspot.com
 http://mujibshena.blogspot.com
 http://bangladeshawamileague.webs.com
 http://worldawamileague.blogspot.com
 http://charterofchange.blogspot.com/
 http://charterofchange2021.blogspot.com/
 http://digitalbangladesh.blog.com
 http://mukthi.tumblr.com/archive
 http://mukthi.tumblr.com/muktimusician
 http://thefutureleaderjoy.wordpress.com/
 http://thefutureleader.webnode.com
 http://jajaborpakhi.blog.com/
 http://moktelhossainmukthi.blog.com
 http://muktimusician.blog.co.in
 http://muktirpata.blogspot.com
 http://muthirpachali.blogspot.com
 http://mukthimadaripuri.blog.co.in
 http://amarmonmanena.webs.com/
 http://mukthi.webnode.com/
 http://muktirpata.weebly.com/
 http://khasherhat.blogspot.com
 http://amramujibshena.blog.com/
 http://muktimusician.blog.com
 http://muktimusician.stumbleupon.com/
 http://muktimadaripuri.blogspot.com
 http://muktimusician.blogspot.com
 http://mukthircollection.blogspot.com
 http://muktimusician.photobucket.com/
 http://muktimusician.wordpress.com
 http://mukthircollection.blogspot.com
 http://moktelhossainmukthi.blogspot.com
 http://freedomfighters71.blogspot.com
 http://misrulesofbnpjamat.blogspot.com
 http://warcrime1971.blogspot.com
 http://khaledaziaandrazakars.wordpress.com
মোকতেল হোসেন মুক্তি
কন্ঠশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
সময়৭১
মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ
বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মালদ্বীপ শাখা
সাধারণ সম্পাদক
মালদ্বীপস্থ প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন
সুরকার গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক
সঙ্গীত শিক্ষক
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।  


Friday, June 9, 2017

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকতে তাঁর সম্পর্কে যত লেখা লিখেছি, তাঁর মৃত্যুর পর সেই লেখার সংখ্যা বহু গুণ বেশি।


gaffar chyএজন্য প্রথমে তিনি আরবান মিডলক্লাস ও পেশাজীবীদের মধ্যে কলোনিয়াল যুগের শ্রেণী বৈষম্য বাকশাল ব্যবস্থায় ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিলেন। আমার পাঠকদের মধ্যে যারা প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছেছেন তাঁদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আইনজীবীদের মধ্যে চারটি শ্রেণী ছিল। ব্যারিস্টার, এ্যাডভোকেট, প্লিডার এবং মোক্তার। এই পেশায় ব্যারিস্টার ও এ্যাডভোকেটরা ছিলেন অভিজাত, প্লিডার মধ্যম অভিজাত এবং মোক্তারেরা হরিজন শ্রেণী।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকতে তাঁর সম্পর্কে যত লেখা লিখেছি, তাঁর মৃত্যুর পর সেই লেখার সংখ্যা বহু গুণ বেশি। যতই লিখি ততই মনে হয়, তাঁর সম্পর্কে আরও আরও লেখার রয়ে গেছে। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই তাঁর সম্পর্কে লিখতে পারব। এতই বৈচিত্র্যপূর্ণ তাঁর জীবন। তিনি মহাদার্শনিক ছিলেন না, মহাপন্ডিতও ছিলেন না। কিন্তু মহাপন্ডিতরা বা মহাদার্শনিকরা যা করতে পারেননি, তিনি তা করেছিলেন। অর্থাৎ একটি লুপ্তপ্রায় জাতিকে তার ভৌগোলিক ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব দান করেছেন এবং তার বিপন্ন সভ্যতা, সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাসকে রক্ষা করেছেন।
কথাটা বলেছিলেন, ব্রিটেনের প্রখ্যাত বাম দার্শনিক জ্যাক ওয়াডিস। তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্বে শোষণমুক্ত সাম্যবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তত্ত্ব প্রচার করেছেন কার্ল মার্কস। কিন্তু তিনি কোন কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে যেতে পারেননি। সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন রাশিয়ায় আইনের ছাত্র লেনিন এবং চীনে স্কুল-শিক্ষক মাও জে দুং। তেমনিভাবে বলা চলে, স্বাধীন অথবা স্বতন্ত্র বাংলার স্বপ্ন সচেতন বা অবচেতনভাবে দেখেছেন অনেকেই; যেমন চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষ বসু, ফজলুল হক, শরৎ বসু, আবুল হাশিম। তাঁরা কেউ বিখ্যাত ব্যারিস্টার ছিলেন, কেউ বিলেতে লেখাপড়া করা নেতা, কেউ বিখ্যাত আইনজীবী, কেউবা বিখ্যাত প-িত ও বাগ্মী ছিলেন। কিন্তু সচেতন বা অবচেতন মনের এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন কেউ করে যেতে পারেননি; করেছেন ফরিদপুরের টুঙ্গিপাড়ার একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা শেখ মুজিবুর রহমান। তাই জাতির পিতার শিরোপাটি আজ তাঁকেই ধারণ করতে হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করে গেছেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা অনুযায়ী দেশটা গঠন করে যেতে পারেননি। তবে দেশ গঠনের সেই পথে পা বাড়িয়ে তিনি তাঁর স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার কাঠামোটা জাতিকে দান করে দিয়ে গেছেন। তাঁর নাম বাকশাল-দর্শন। বাংলাদেশে নব্যধনী এবং নব্য এলিট শ্রেণীর সমন্বয়ে পুরনো কায়েমি স্বার্থের (াবংঃবফ রহঃবৎবংঃ) উত্তরাধিকারী নব্য কায়েমি স্বার্থ গোষ্ঠী এই বাকশাল নাম শুনলেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। ড্রাকুলারা যেমন ক্রসচিহ্ন দেখলে ভয় পায়, বাংলাদেশের লুটেরা, সমাজপতিরা এই বাকশাল নাম শুনলে আঁৎকে ওঠে। কারণ এই বাকশাল-ব্যবস্থাটি ছিল পুরনো আমলাতান্ত্রিক শাসন এবং নব্যধনী গড়ে তোলার শ্রেণী শোষণমূলক ব্যবস্থা পরিবর্তনের একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপ সফল হলে সাম্রাজ্যবাদ ও সামন্তবাদ এবং নব্যধনীদের সমন্বয়ে গঠিত গণশত্রু জোটের চক্রান্ত থেকে বাঁচতে পারত দেশটি। ১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত ঘটনাগুলো আর কিছুই নয়, ছিল নিষ্ঠুর প্রতিবিপ্লব। তাতে শুধু জন প্রতিক্রিয়াশীলেরা নয়, বিভ্রান্ত এবং বিচ্যুত বামদের একটা বড় অংশও সাহায্য ও সমর্থন যুগিয়েছিল। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু মাত্র বাকশাল-ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাস্তবতা ও সাফল্য দেখিয়ে যেতে পারেননি। ব্যবস্থাটি প্রবর্তনের মাত্র আট মাসের মাথায়Ñঅর্থাৎ ব্যবস্থাটি যখন এক্সপেরিমেন্টের আঁতুড়ঘরে তখনই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় এবং ব্যবস্থাটি উচ্ছেদ করা হয়। তারপর গত ৩৮ বছর ধরে চলেছে এই আট মাসের অপরীক্ষিত ব্যবস্থার ঢালাও নিন্দাবাদ। বাম এবং ডান উভয় রাজনীতির তরফ থেকে।
বিস্ময়ের কথা এই যে, বাকশাল-ব্যবস্থাকে ‘একদলীয় শাসন প্রবর্তন’ ‘গণতন্ত্র হত্যা’ ইত্যাদি বলে যখন অনবরত প্রচারণা চালানো হয়েছে, তখন আওয়ামী লীগের সামনের কাতারের নেতারা এবং আওয়ামী ঘরানার বলে পরিচিত অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শকে ডিফেন্ড করা বা অপপ্রচারের জবাব দেয়ার জন্য এগিয়ে আসেননি। বরং বাকশাল প্রসঙ্গ উঠলেও লজ্জাবতী লতার মতো গুটিয়ে গেছেন। যেন প্রসঙ্গটি এড়াতে পারলেই তাঁরা বাঁচেন। আদর্শের দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ এখানে শত্রুপক্ষের কাছে হেরে গেছে।
আমার কাছে বিস্ময়কর, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কেবল শত্রুপক্ষই তাঁর নামনিশানা মুছে ফেলার জন্য তৎপর হয়েছিল তা নয়, আওয়ামী লীগরাও যারা ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক’ বলে এখনও বুক চাপড়ান, তাঁরা সর্বাগ্রে বঙ্গবন্ধুর শেষ জীবনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাকশাল দর্শন ত্যাগ করেন, বাকশাল ভেঙ্গে দিয়ে আওয়ামী লীগ নামটিকে তার পাতি বুর্জোয়া চরিত্রসহ পুনরুজ্জীবিত করে তাতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িক দল থেকে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দলে এবং গণতান্ত্রিক দল থেকে বাকশাল নামে সমাজবাদী দলে উত্তরণের যে ধারা অব্যাহত ছিল তা রুদ্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় শুধু আওয়ামী লীগের নয়, বাংলাদেশের গোটা ডান ও বাম রাজনীতির দ্রুত পশ্চাৎপসরণ। বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে আবার শ্রেণী বিভক্ত সমাজব্যবস্থা এবং তাতে নবউত্থিত লুটেরা শ্রেণীর একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বর্তমানে আমার বাম বন্ধুরা যাদের ‘লুটেরা শাসন শ্রেণী’ বলে নিত্যগালি দেন, তাঁরা নিজেদের অজান্তেই নিজেরাও সেই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের বর্তমান ডান, বাম, মধ্যবাম, মধ্যডান সব রাজনীতির এবং রাজনীতিকদের উৎস একই সুবিধাবাদী ও লুটেরা নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণী। তাঁদের কথাবার্তা, রাজনীতির খোলসে লাল, সবুজ, হলুদ, বাদামি নানা রঙ থাকতে পারে কারও লাঙ্গল, কারও চাঁদতারা প্রতীক থাকতে পারে, কিন্তু ভেতরে তাঁদের একই রঙ, একই শ্রেণীস্বার্থে তাঁরা বাঁধা। এ জন্যই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি প্রভৃতি এখন বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক আদর্শের দল বলে পরিচিত। কিন্তু বাংলাদেশে এদের সকলের রাজনীতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা কেউ কৃষক শ্রমিক বা গরিব মানুষের প্রতিনিধি নন। তারা সকলেই নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের শ্রেণীর স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন। এরা মুখে বা সজ্ঞানে সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মতন্ত্রের কথা বলেন, কিন্তু অবচেতনভাবে সামন্ত যুগীয় মনোভাব, পরিবারতন্ত্র এবং একই শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করে চলেন। এ জন্যই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এত বিপুলসংখ্যক ফ্রন্ট থাকা সত্ত্বেও তা এতটা বিভক্ত এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতার নামেও এরা ওই সাম্রাজ্যবাদেরই রক্ষিতার দায়িত্ব পালন করেন। আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজের বর্তমান ভূমিকা থেকে এই কথার সত্যতার আরও বেশি প্রমাণ মেলে।
বঙ্গবন্ধুর বাকশাল-দর্শন নিয়ে মুক্ত মনে কোন গবেষণা হলে দেখা যেত, তিনি মার্কসবাদী না হয়েও মার্কসের শ্রেণীদ্বন্দ্বে হয়ত বিশ্বাসী ছিলেন। আজকাল দেশ-বিদেশের অনেক নব্যপ-িত শ্রেণীসংগ্রামের তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। তাঁরা বলেন, শ্রেণীসংগ্রামের যুগ শেষ হয়ে গেছে। কারণ, সমাজে শোষক ও শোষিত শ্রেণীর চরিত্র পাল্টে গেছে। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, উন্নত ইউরোপেও শ্রেণীসংগ্রামের চেহারা পাল্টালেও মূল সংগ্রামটা শেষ হয়নি। ব্রিটেনে মার্গারেট থ্যাচারের সরকারের আমলে কয়েক বছরব্যাপী খনি শ্রমিকদের ধর্মঘট এবং তা ভাঙ্গার জন্য গোটাব্রিটিশ এসটাবলিশমেন্ট, সেনা-পুলিশ বাহিনী, বিচার বিভাগ, শিল্পপতি, বড় ব্যবসায়ী এবং মিগমিডিয়ার সম্মিলিত চেষ্টার মধ্যে শ্রেণীসংগ্রামের ছবিটি বড় বেশি প্রকাশ্য হয়ে উঠেছিল। রূপটি মারডোকের টাইমস পত্রিকার প্রিন্টিং ওয়ার্কার্সদের দীর্ঘ ধর্মঘটের মধ্যে শ্রেণীসংগ্রামের রূপটি আদৌ ঢাকা ছিল না। শ্রেণীসংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। আধুনিক প্রযুক্তির আবিষ্কারের ফলে একটি হোয়াইট কলার ওয়ার্কার্স শ্রেণীর উদ্ভব হওয়ায় এই সংগ্রামের চেহারা পাল্টে গেছে এবং গ্লোবাল ক্যাপিটালিজম একটা সুবিধাজনক স্থানে আছে। যা হোক, এই তত্ত্ব নিয়ে আজ আলোচনা নয়।
বঙ্গবন্ধু হয়ত বাংলাদেশে শ্রেণীদ্বন্দ্ব ও শ্রেণীসংগ্রাম এড়িয়ে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তিনি এও ভেবে থাকতে পারেন, তিনি যখন দেশ স্বাধীন করে নিজে ক্ষমতায় বসতে পেরেছেন, তখন শ্রেণীসংগ্রাম এড়িয়ে নিজের ক্যারিশমা ও নেতৃত্ব গুণের জোরে বাংলাদেশে উদীয়মান লুটেরা একটি শ্রেণীর মাথা তোলা বন্ধ করে এতকালের শোষিত শ্রেণীরগুলোর অধিকার ও স্বার্থরক্ষা করতে পারবেন এবং রাষ্ট্রক্ষমতাতেও তাঁদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পারবেন।
অনুরূপভাবে চিকিৎসকরা ছিলেন এমবিবিএস ও এলএমএফ এই প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। জার্নালিস্ট বা সাংবাদিক বলতে পত্রিকায় প্রুফ রিডারদের বোঝাতো না। তারা ছিল অন্ত্যজ শ্রেণী, সাংবাদিক ইউনিয়নে তাদের সদস্য হওয়ার অধিকার ছিল না। আরও অনেক পেশার ক্ষেত্রে সামন্তযুগীয় এই উঁচু-নিচুর অভিজাত ও অনভিজাত শ্রেণীভেদ আরবান নগর সমাজেও প্রাধান্য বিস্তার করে ছিল।
বঙ্গবন্ধুর বাকশাল-প্রথায় এই শ্রেণীভেদ ও বৈষম্য লুপ্ত করা হয়। আইনজীবীদের চারটি শ্রেণী ভেঙ্গে শুধু এ্যাডভোকেট শ্রেণীতে সকলের পরিচয় সীমাবদ্ধ করা হয়। ব্যারিস্টারদেরও এ্যাডভোকেট হিসেবে পরিচিত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। মোক্তারদের শর্ট কোর্সের শিক্ষার মাধ্যমে এ্যাডভোকেট হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। মেডিক্যাল স্কুল থেকে যারা ডাক্তারী পাস করে এলএমএফ ডাক্তার নামে পরিচিত হতেন, তাঁদের এক বছরের শর্ট কোর্সে অধ্যয়ন দ্বারা এমবিবিএস হওয়ার অধিকার দেয়া হয়। এলএমএফ ডিগ্রী বাতিল করা হয়। সংবাদপত্রের প্রুফ বিডারদের সাংবাদিক হওয়ায় মর্যাদা দেয়া হয়। আরও অনেক পেশায় এই শ্রেণীভেদ ও বৈষম্য লুপ্ত করা হয়।
এটা ছিল আমাদের কায়েমী স্বার্থ ও অভিজাততন্ত্রভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় প্রচ- আঘাত। এই আঘাতের বৈপ্লবিক গুরুত্ব তখন আমরা অনেকেও অনুধাবন করতে পারিনি। আমার মনে আছে, একদিন প্রখ্যাত আইনজীবী মির্জা গোলাম হাফিজের বাসায় গেছি। দেখি, তিনি রাগে অন্ধ হয়ে বন্ধুবান্ধবের সামনে চিৎকার করছেন। বলছেন, শেখ সাহেব ভেবেছেন কি আমার মতো এক এ্যাডভোকেটকে তিনি একজন মোক্তারের সঙ্গে এক ঘাটে পানি খাওয়াবেন? এটা আমরা হতে দেব না।
তখনকার সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। তাদের দাবি ছিল সংবাদপত্রের প্রুফ রিডারদের সাংবাদিক হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এই প্রতিনিধি দলে কতিপয় বামপন্থী সাংবাদিকও দেখেছি। তারা প্রুফ রিডারদের সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় সরকারের আইনের ঘোরবিরোধী। আগেই বলেছি, আমাদের ডান বাম সব রাজনীতির উৎস একই সুবিধাবাদী নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণী। তাদের শ্রেণীস্বার্থে আঘাত পড়লে ডান বাম নির্বিশেষে সকলেই যে একই সুরে কথা বলতে পারেন, তার প্রমাণ তখন দেখেছি।
বঙ্গবন্ধু বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তন করতে গিয়ে ভীমরুলের চাকে খোঁচা দিয়েছিলেন। তাঁর পদ্ধতির বিরুদ্ধে শুধু সেনাতন্ত্র, আমলাতন্ত্র নয়, শ্রেণী বিভক্ত সমাজের সকল স্তরের শিরোমণিরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন বাকশাল প্রথা ও তাঁর প্রবর্তককে অবিলম্বে উৎখাতের জন্য। বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তন সফল হলে বাংলাদেশে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে যেত। আজকের দুর্নীতি, সন্ত্রাস, শোষণ ও লুণ্ঠনে জীর্ণ দেশটির চেহারা অন্য রকম হতো।
বাকশাল পদ্ধতিটি দেশে চালু হতে পারেনি। মাত্র আট মাস পদ্ধতিটি নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরীক্ষা চালাবার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু এই আট মাসের (জানুয়ারি-আগস্ট, ৭৫) পরীক্ষা নিয়ে আটত্রিশ বছর যাবত প্রচারণা চালানো হচ্ছে, বাকশাল ছিল একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ও ডিক্টেটরশিপ প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা ইত্যাদি ইত্যাদি। যাঁরা বুদ্ধিজীবী সেজে, সাংবাদিক ও কলামিস্ট সেজে এখনও এসব কথা প্রচার করেন, তাঁদের অধিকাংশই পরবর্তীকালে সামরিক শাসন থেকে শুরু করে গণবিরোধী সকল শাসনের গুণগান করেছেন। সেই শাসনের অনুগ্রহভোগী হয়েছেন।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের কুৎসা, নিন্দা, চরিত্র হননের একটানা অভিযান ব্যর্থ করে বঙ্গবন্ধু আবার তাঁর উজ্জ্বল নন্দিত রূপটি নিয়ে জাতীয় মানসে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তিনি এখন নন্দিত। কিন্তু তাঁর বাকশাল-পদ্ধতিটি এখনও একশ্রেণীর মানুষের কাছে নিন্দিত। এক্ষেত্রে কুৎসা ও মিথ্যাচার সত্যকে ঢেকে রেখেছে। এই মিথ্যাকে পরাজিত করে সত্যের উদ্ঘাটন প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে এখন বহু বই পুস্তক বেরুচ্ছে, একই সঙ্গে দরকার বাকশাল পদ্ধতি নিয়ে সুষ্ঠু আলোচনা ও গবেষণা। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের স্বার্থেই বাংলাদেশের মুক্ত মনের গবেষক ও ইতিহাসবিদরা একদিন বাকশালের আসল চরিত্র ও লক্ষ্য খুঁজে বের করবেন এবং বঙ্গবন্ধুর নামের সঙ্গে এই বাকশালও একদিন নন্দিত হবে বিকৃতিমুক্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে।



Wednesday, June 7, 2017

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি বিশেষ্য বিশেষন দিয়ে তোষামোদি করতে জানিনা। তাই সরাসরি আমার কিছু না বলা কথা এবং কিছু হতভাগা মুক্তিযোদ্ধাদের করুন ইতিহাস আপনার সদয় অবগতির জন্য মিডিয়ার সাহায্য নিতে বাধ্য হলাম।আপা, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুজিবনগরে প্রশিক্ষণ নেয়া যোদ্ধা।
  স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২রা মার্চ জাতিরজনক বংগবন্ধু/বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজুদ্দিন আহমেদ একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই ১০ মিনিটের নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকুরী প্রদান করেছিলেন। ৭ দিন কি ৮ দিন পায়ে হেটে না খেয়ে মুজিবনগরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নেশায়।

এ নেশা সাড়ে সাত কোটি মানুষের রক্তে মাংসে অস্তিত্বে মগজে সেলের মত বিধেছিল ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ "পশ্চিমা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে হবে" জাতিরজনকের এই উদাত্ত আহবানে সারা দেয়া কী ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? তাই আমি মুক্তিযোদ্ধা। নামবিহীন অস্তিত্ববিহীন মুক্তিযোদ্ধা! নাম বদলে দিলাম। মোঃ মোকতেল হোসেন থেকে নাম বদলে হয়ে গেলাম মোকতেল হোসেন মুক্তি।
পরবর্তীতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ১৩ই এপ্রিল ১৯৭২ সালে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হলে মাদারীপুরের কৃতি সন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খাদ্যমন্ত্রী প্রয়াত ফনি ভূষন মজুমদারের অনুস্বাক্ষরে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবীল থেকে এক হাজার টাকার অনুমোদন (মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসক অফিসে) এবং ৩ বান ঢেউ টিন প্রদান করেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের রেকর্ডে একজন মুক্তিযোদ্ধার কোটায় আমার চাকুরী হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের সচিবালয়ে আমিই ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলাম। আমার ডিউটি ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার ফুফা, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি, সাবেক চীপ হুইপ আলহাজ্ব হাসনাত আব্দুল্লাহ সেরনিয়াবাত এর গর্বিত পিতা, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ভাইয়ের শ্বশুর, সাংসদ ব্যারিষ্ঠার তাপসের নানা সাবেক কৃষক লীগের সভাপতি ভুমি মন্ত্রী ও পরবর্তীতে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায়।
ইতিহাসের ঘৃণ্য কালো অধ্যায় ১৫ঈ আগস্টের মধ্যযূগীয় বর্বর হত্যাকান্ডের লাশ দেখে আমি পাগল হয়ে যাই। পিজি হাসপাতালে আমার ৩ মাস চিকিতসা চলে এবং সে তিন মাসের বেতন ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তন করে। এ কথা সকলেই জানেন।আমি ভারতের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার ঘরের সব কাগজপত্র আমার ভাইদের শিক্ষার সনদ, জমির দলিল দস্তাফেজ সমূহ সব মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ছিড়ে ফেলি। আমার পরিবারের সব আমি ধংস করে ফেলেছিলাম। ভুমি মন্ত্রনালয় তার প্রমান।
আমি মন্ত্রীকে এসব কথা বলাতে আমাকে অপমান করতে পারেন না। আমি প্রবাসে থাকি। আমাকে আবেদনের সুযোগ না দিয়ে অপমান করার অধিকার মন্ত্রীর নাই। তিনি আমার দরখাস্ত গ্রহন করা ও না করার অধিকার রাখেন কিন্তু মেজর জেনারেল সুবিদ আলীর নির্দেশে  আমাকে অপমান করতে পারেন না। তিনি আমার আবেদনে লিখেছেন
“যেহেতু আবেদনকারী বহুবার দেশে এসেছিলেন এবং আবেদন করেন নি তাই তার আবেদন গ্রহন করা গেল না”
তিনি মেজর জেনারেল সুবিদ আলীর শিখানো কথা মত বললেনঃ ৪৫ বছর পরে মুক্তিযোদ্ধা হতে এসেছে। বের করে দেন”।
আমি মুক্তিযোদ্ধাই নই, একজন সক্রিয় আওয়ামি যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া আমার জীবনে অন্য কোন বিষয় কাজ করেনি এবং এ মুক্তিযুদ্ধ বংগবন্ধ ও আওয়ামী লীগই আমার ধ্যান ধারনা চিন্তা চেতনা আদর্শ এ কথা প্রমান করে আমার ৬০ হাজার প্রায় লীফলেটস, ব্যানার ও পোষ্টার এশিয়ায় ইন্টারনেট চালু হবার পর থেকেই কার বিনা প্ররোচনায় করে এসেছি। শুধু তাই নয় আমি ২০০ ওয়েব সাইট ও ব্লগ মেইনটেইন করি যা’শুধু যুদ্ধাপরাধী মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত। এ সকল ছবি ও ব্লগ/ওয়েবসাইটগুলোই প্রমান করে যে আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রীতিমত একজন বদ্ধ উন্মাদসম গবেষক।
Just write my name on the google search engine where you’ll get real Identity of mine “write Moktel Hossain Mukthi or muktimusician.
এ ছাড়াও আমি একজন একনিষ্ঠ অনলাইন আওয়ামী যোদ্ধা। মালদ্বীপের বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, মালদ্বীপের মাটিতে আমিই সর্ব প্রথম মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু এবং পাকিস্তানের ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তৃতা প্রদান করে পাকিস্তান হাই কমিশনের মামলা খাওয়া একজন মালদ্বীপ সরকারের শিক্ষক।
মন্ত্রী মহোদয় এ সব পরিচয় জানার পরেও বলেন নি যে আপনি বসেন বা কিছু বরং তাঁর আচার ব্যবহার এতই রুঢ় ছিল যা’ শিবির বা জামাতের কারো সাথে করছেন বলে অনুমেয়। আমার সাথে ভদ্র ভাষায় কথাও বলেন নি। এক পর্যায়ে জেনারেল সুবিদ আলীর কথায় তিনি আমাকে ঘাড় ধরে তাঁর কক্ষ থেকে বেড় করে দেয়ার কথা বলেন এবং অতঃপর.........।।
তিনি মন্ত্রী না হলে হয়তো সেখানেই কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতো। আমি আমার নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে চলে আসি। আমার সহযোদ্ধারা এখনো অনেকেই বেচে আছেন। ড: গোলাপ আমার সাথের একই ক্যাম্পের যোদ্ধা। আওয়ামি যোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী সব সময় প্রচন্ড মিথ্যা কথা বলেন। যা' মিডিয়া ও বক্তৃতায় বলেন, বাস্তবের সাথে তার কোন মিল নেই; তিনি যা বলেন সব মিথ্যা কথা মিথ্যা তথ্য। এখনো বহু আসল মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত করতে পারেনি অথচ তিনি বক্তৃতায় ঘোষনা করলেন সকল জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা রেকর্ড করা হবে। আসল অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামই সংগ্রহ করতে পারেন নি-তিনি কিভাবে এ ঘোষনা প্রদান করেন? 
তার দেয়া সব তথ্য জাতিকে বিভক্ত করছে; মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কলঙ্কিত হচ্ছে। নতুন তালিকা প্রণয়নের নামে এগুলো প্রতারণা। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন। মিডিয়া, দেশবাসী এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রতারণা করছেন । দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজেলা ও জেলাসমূহে যে দুর্নীতি চলছে, যে সনদ ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের নামে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের বিগত বছরগুলোর সকল সফলতা এমন কি মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের যে অবদান সব মলিন হয়ে যাবে এই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীদের মত স্বজনপ্রীতি দুর্নীতি গ্রস্থ নেতা/কমান্ডারদের কারনে।
কারন আপনি আদর্শিক কারনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষন ও মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করছেন।  সমস্ত মন্ত্রী এম পি দের তৃনমূলের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। ক্ষমতা ও অর্থ সম্পদ শালী মধ্য শ্রেণীর নেতা যার মধ্যে অর্ধেকই প্রায় জামাত শিবির ও বি এন পি, তাদের সাথে তাল মিলিয়ে, হাত মিলিয়ে আমার মত পাগল ছাগল নিবেদিত ত্যাগি সৎ নিষ্ঠাবান অভিজ্ঞ উচিত কথাবলার প্রকৃত মুক্তিসেনাদের এভাবেই তারা অপমান তাচ্ছিল্য করে দূরে সরিয়ে রাখে। যে কারনে ছাত্রলীগের ছেলেদের সেনাবাহিনী নৌ বাহিনী বিমান বাহিনী পুলিশ বিজিবি ও অন্যান্য সরকারী ভালো পদে চাকুরী হয় না।
কারন ওরা ত টাকা দিতে পারবে না। দলীয় ছাত্র লীগের ছেলেদের নিকট টাকা চাইতেও পারে না; যদি আবার নেত্রীকে বলে দেয় বা জানিয়ে দেয়। তাই গোপনে আওয়ামী লীগের নেত্রীর বিশ্বাসী নেতাগন গোপনে চাকুরী প্রদান করে, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তির সুপারিশ ও তদবীর করে জামাত বি এন পির ছেলে মেয়েদের । কারন টাকা পাওয়া যাবে।
উত্তরা ও এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় আমার বাস। আমার জানা মতে ঠিক আমারই মত ত্যাগি জীবনবাজী রেখে নৌকার জন্য ভোট সংগ্রহ কারীর একটি মেয়েকে বঙ্গ মাতা স্কুলে ভর্তির জন্য কি না করেছে? মায়া ভাই পর্যন্ত বিষয়টি জানতেন। সে মেয়েটি সুযোগ পায়নি; দেখা গেছে-ঢাকা এয়ারপোর্ট ও বিমানে চাকুরীরত জামাত বি এন পির ছেলে মেয়েরা অজানা রহস্যের কারনে সবাই সুযোগ পেয়ে গিয়েছে।
এর নাম স্বাধীনতা ? মুক্তিযুদ্ধ ? আওয়ামী লীগ ? এত সে বঙ্গবন্ধুর নৌকা ডুবানোর দুরদন্ত শয়তানী মাঝি খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চাষী মাহবুবুল আলম, নূরুল ইসলাম, কে এম ওবায়দুর রহমান তাহের উদ্দিন ঠাকুরদের চেয়ে একটূ কম নয়। আমিই হলাম বাঙ্গালী জাতির মধ্যে সবচেয়ে কুলাঙ্গার। ধিক্রিত অবহেলিত লাঞ্ছিত মূর্খ বেয়াকুপ বেয়াক্কেল আহাম্মদ বোকা গাধা । না পারলাম প্রাণ খুলে হাসতে না পারলাম দুটি কন্যা সন্তানকে প্রাণ খুলে হাসতে। কি লাভ হল? এ স্বাধীনতায়? যে স্বাধীনতা আমার অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেয় না; সে স্বাধীনতাকে আমি কেন স্বীকৃতি দেব? রাষ্ট্রই যদি আমাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়, আমি কেন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবো? কেউ দেবে না। এটাই নিয়ম, এটাই লজিক। জানি আমি এতে হবো রাষ্ট্রদ্রোহী। তাও মন্দ কী? একটা কিছু ত হবো? আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘাড় ধরে বেড় করে দেয়?? এ স্বাধীনতার অর্থ কী? কেন পেলাম? কি আশায় স্বাধীন হলাম? কিসের নেশায় নৌকা নৌকা মুজিব মুজিব করে জীবনের শেষ অবস্থানটুকুকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে নির্বাসিত হলাম এই দ্বীপ রাজ্য মালদ্বীপে । ভুল কোথায়? ভুল তো আছেই হয়তো জানিনা জীবনের কোথায় কোন সিদ্ধান্তে বড় রকমের ভুল ছিল। তাই ভুলের মাশুল দিয়ে গেলাম ৬৫ বছর বয়সের মুক্তিযোদ্ধা মোকতেল হোসেন মুক্তি।


ভুল তথ্য দিচ্ছেন। এর সমাধান চাই। এর একটি পরিস্কার ব্যাখ্যা চাই; সত্যের জয় হবে; তাই চাই; জাতিরজনকের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের নিয়ে রঙ তামাশা করবে; মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারণের নামে ব্যবসা করবে, এর জন্য যুদ্ধে যাইনি, এর জন্য ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী শহীদ হয়নি; এর জন্য ২ লক্ষ ৪০ হাজার মা বোনের ইজ্জত হারায়নি। আসল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাই করতে ব্যর্থ মোজাম্মেল হক।
এই মিথ্যাচারের জন্য আল্লাহ্‌ বিচার করবেন রোজ হাসরের দিন। মহান আল্লাহর বিচারে কারো হাত নেই। আল্লাহর উপরে কোন মন্ত্রী নেই; আল্লাহর উপরে বিচারক নেই; রোজ হাসরের থেকে শক্তিশালী ক্ষমতাবান কোন আদালত নেই। বহু আসল মুক্তিযোদ্ধা এখনো তালিকার বাইরে এবং এ সমস্যা আগামী ১০০ বছরেও কোন সরকার সমাধান করতে পারবে না। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কথা রেকর্ড হবে ।
মন্ত্রী নিজেও জানে না যে উপজেলা জেলা গুলোতে এই তালিকা নিয়ে কি পরিমান টাকার ছাড়াছড়ি চলছে? কি পরিমান ব্যবসা করছে নব্য থানা কমান্ডারগণ। এমন কোন উপজেলা নেই যেখানে সত্যকারের মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে নাই এবং ভূয়া মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী মন্ত্রীর ক্ষমতা বলে নয়তো এম পির ক্ষমতা বলে অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্ষমতা বলে নতুন তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এমন প্রমান আমার গ্রামে আমার ইউনিয়নে রয়েছে। আমি ত অন্যের ক্কথা শূনে এ সব লিখিনি ভাই।ফুরিয়ে যাচ্ছে ৭১ এর সোনার ছেলে মেয়েরা, বেচে থাকবে শুধু ৭১ এ জন্ম নেয়া নব্য মুক্তিযোদ্ধারা, যারা লক্ষ টাকায় মুক্তিযুদ্ধের সনদ কিনে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। আমরা মুজিবনগরে (ভারতে) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এর চেয়ে বড় পরিচয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপ ভারতের চাদপাড়া এবং পরবর্তীতে ব্যারাকপুর মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং আমরাও একই সময়ে একই শিবিরে একই কমান্ডারের অধীন প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা। ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপের নাম যদি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তালিকায় থাকতে পারে, তবে আমাদের নাম থাকবে না কেন? শুধু আমরা নই, সারা বাংলাদেশে বহু অখ্যাত অপরিচিত অশিক্ষিত অজো পাড়া গায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। বহু মুক্তিযোদ্ধা ইতোমধ্যেই পরলোকগমন করেছেন, কোন স্বীকৃতি ও সুযোগ সুবিধা ভোগ না করেই তারা চলে গেছেন বাঙ্গালী জাতিকে মহান স্বাধীনতা প্রদান করে। তাদের নাম কে তালিকাভুক্ত করবে? কেন একটি সঠিক তদন্ত কমিটি কর্তৃক সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়নি? এ প্রশ্ন সরকার ও দেশবাসীর কাছে। আমরা মনে করি মহান মুক্তিযুদ্ধের নেত্রিত্বদানকারী দল হিসেবে জাতিরজনক বংগবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের এ মহান দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের জীবদ্ধশায় সম্পন্ন করা উচিত। সবাই শেয়ার করুন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সত্যিকারে শ্রদ্ধা থাকে।
আমার সার্টিফিকেট দরকার নাই। কোন ভাতার দরকার নাই। আপনি মুসলমান দাবী করলে আমি কেন করবো না? আমিও তো  নামাজ পড়ি? মন্ত্রী আমাকে অপমান করতে পারে না। তার চেয়ে আওয়ামী লীগের জন্য আমার অবদান সেই ৬৯ থেকে অদ্যাবধি তিল পরিমান কম নয়; বঙ্গবন্ধু আমাকে চাকুরী দিয়েছিলেন সচিবালয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। অমুক্তিযোদ্ধা ভাতা পায় এবং তা আওয়ামী লীগের আমলে এবং আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর স্বাক্ষরে কেন? আমার কি ইচ্ছে করে না যে আমার সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক। আমার সন্তানের কি ইচ্ছে করে না, তার বাবা মুক্কতিযোদ্ধা এ কথা অন্য দশজনের নিকট বলে গৌরব বোধ করতে? মন্ত্রীর ইচ্ছে মত চলতে পারে না; এ সব তথ্য নেত্রীর জানা দরকার।
নিবেদক - মোকতেল হোসেন মুক্তি, কন্ঠশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা,
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সময়৭১।
মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ
বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মালদ্বীপ শাখা
সাধারণ সম্পাদক
মালদ্বীপস্থ প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন
সুরকার গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক
সঙ্গীত শিক্ষক
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।


উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের তিন বছর







গনতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি এ দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গনতন্ত্রের যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে একটি গুরত্বপূর্ণ এবং অন্যান্য মাইলফলক।

বাংলাদেশের জনগন দেশের স্বার্থে সবসময়ই অত্যন্ত সক্রিয়।চলমান উন্নয়ন পক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রয়োজন জনগনের সক্রিয় অংশগ্রহন,সহযোগিতা এবং যথাযথ সমন্বিত উদ্যেগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যেগের কারনে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলসমূহ অর্জনে সাফল্য দেখিয়েছে এবং জাতীয় আয় ও বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখ্যযোগ্য হারে বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তরন ঘটেছে নিম্ন আয় থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে। এ ছাড়াও কৃষি,শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্নখাতে ব্যাপক উন্নতি অর্জিত হয়েছে। অয়ান্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বীকৃতি অর্জন করায় সারা বিশ্বের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্য আজ প্রমানিত। এই সাফল্য ও স্বীকৃতির সমন্বয়ে বর্তমান সরকার রুপকল্প (ভিশন) ২০২১ অর্জনে বদ্ধপরিকর।


গত তিন বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে ও অগ্রগতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলঃ
অর্থ, বানিজ্য ও পরিকল্পনাঃ

গত তিন বছরে গড় প্রবৃদ্ধির হারছিল ৬.৫ শতাংশ। এছাড়া মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৪৬৬ মার্কিন ডলার, রিজার্ভ প্রায় ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রেমিট্যান্স ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ বাস্তবায়ন করা এবং Financial Reporting Act অনুমোদনের পর ২০১৬ সালে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি একটি সাহসী ও দুরদর্শী পরিকল্পনা। 


২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচির ব্যয় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়নে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রপ্তানি খাতে আয় হয়েছে ১৬৭৯.৮১ কোটি মার্কিন ডলার। যা গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি। পুরো ২০১৬ সালে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৪.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিশ্ব ব্যাঙ্ক এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যবসায় প্রতিযোগিতামুলক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পুর্ব এশিয়ার দেশগুলোর রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ‘পাওয়ার হাউজ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

শিক্ষাঃ

দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উপবৃত্তি ও বেতন মওকুফ সহায়তা হিসেবে ৪৯ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থীকে ৮৮০.২৭ কোটি টাকা বিতরন করা হয়। জাতিসংঘের বেধে দেয়া সময়সীমার তিন বছর আগেই ২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাগত সমতা অর্জন করে। এটি সম্ভব হয়েছে মহাজোট সরকারের কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতার ফলে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের অংশ হিসেবে ১০০টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৩.১১ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। ঢাকায় একটি অটিস্টিক একাডেমী স্থাপনের জন্য পৃথকভাবে দুটি হোস্টেল নির্মান করা হবে যেখানে প্রতিটিতে ১০০ জন অটিস্টিক শিশুর আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। অটিজম বিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারপার্সন্ম সায়মা ওয়াজেদ এর আন্তরিক ও কঠোর পরিশ্রমে দেশের ওটিস্টিক ছেলে-মেয়েদের কল্যানে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

২০১৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নীট ভর্তির হার ৯৭.৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়ে ২০.০৯ শতাংশে দাড়িয়েছে। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের দপ্তরসমূহে ইন্টারনেট সংযোগসহ ৫৫টি পিটিআইতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ৫ হাজার ৪৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া,ইন্টারনেট মডেম ও সাউন্ড সিস্টেম সরবারহ করা হয়েছে। আইসিটি ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি জেলা সদরে একটি করে মোট ৬৫টি ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাবসহ সারা দেশের দুই হাজার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনঃ

বিভিন্ন সূচকে স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রতিফলিত হচ্ছে। মানুষের গড় আয়ু ৭১.৮ বছরে উন্নীত হয়েছে। শিশু মৃত্যুর হার কমে প্রতি হাজারে ২৯ জনে দাড়িয়েছে। মাতৃমৃত্যু হারও কমে প্রতি লক্ষে ১৭০ জনে নেমে এসেছে। ৬৪টি জেলা হাসপাতাল ও ৪২১টি উপজেলা হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনে ১৬২৬৩ নম্বরে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার উচ্ছেদে সাফল্যের জন্য বাংলাদেশকে পুরস্কার দিয়েছে। একই বছরে একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স। একসঙ্গে কোনো একটি বিভাগ থেকে এত নিয়োগ দেশে এটাই প্রথম। শুধু বাংলাদেশ নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই রেকর্ড নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রস্তাবিত অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত প্রস্তাবনা পাস হয়েছে।

আগে ৮৫টি দেশে ওষুধ রফতানি হতো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ১২৫টি দেশে ওষুধ রফতানি হচ্ছে। ওষুধ বিদেশে রফতানি হওয়ার কারণে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ আরো জরুরি হয়ে পড়েছে। আর তাই চলতি বছর জাতীয় ওষুধ নীতি ২০১৬-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

দেশের কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈকালিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় অর্ধ লক্ষাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছে। ক্রমান্বয়ে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই সুবিধা চালু হবে।

কৃষি, খাদ্য ও শিল্পঃ

২০১৫-১৬ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে ৩৯১.০৫ লক্ষ মেট্রিক টন।উৎপাদনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৯০০০ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে ২৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৩ সালে জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ৩০ শতাংশ ভর্তূকিতে যন্ত্রাংশ সরবারহের জন্য ১৭২.১৯ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নসহ হাওড় অঞ্চলে কৃষিযন্ত্র সরবারহের জন্য ১০.৬০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। গত তিন বছরে খরা,বন্যা, লবনাক্ততা সহনশীলসহ রোগ প্রতিরোধক্ষম এবং উচ্চ ফলনশীল ৭০টি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। কৃষকদের জৈবসার ও প্রাকৃতিক বালাইনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত করার ফলে নিরাপদ ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

২০১৬ সালে দানাশস্যের উৎপাদন ৩৫.৬৮ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে অভ্যন্তরীন উৎস হতে ১২ লক্ষ টন চাল এবং ২ লক্ষ ৪ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে মোট খাদ্যশস্য মজুদ ছিল ১৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়ই শ্রীলংকায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এই প্রথম অন্য দেশে চাল রপ্তানি করেছে। সরকারি খাদ্য বিতরন কর্মসুচির আওতায় ১১ লক্ষ ২৭ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন গম বিতরন করা হয়েছে। সরকারি খাদ্য গুদামের ধারনক্ষমতা ২০ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও পারিবারিক পর্যায়ে দুর্যোগপ্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে ৫ লাখ পারিবারিক সাইলো বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বর্তমানে মৎস্য উৎপাদনে গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬.২৩ শতাংশ। প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ লোক মৎস্য খাত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে।রুপকল্প ২০২১ অর্জনে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৫.৪৮ লক্ষ মেট্রিক টন মৎস্য ও চিংড়ি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। দুই বছরে প্রায় ১৬৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হয়েছে এবং ১.৬১ লক্ষ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্য জাত পণ্য রপ্তানি করে ৯.৫ হাজার কোটি টাকার বৈদশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ blue growth economy তে বাংলাদেশকে pilot country হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন ৬৯.৭০ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে মাংস ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে ৫৮.৬ লক্ষ মেট্রিক টন ১ হাজার ৯৯ কোটি ৫২ লক্ষে উন্নীত হয়েছে।

ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরনকল্পে বার্ষিক ৫ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন শাহজালাল সার কারখানা নির্মান প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। বিসিক ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে দেশ ব্যাপী ক্ষুদ্রশিল্পে ৩৮৯০ ও কুটিরশিল্প খাতে ৮৯৩৪ জন সম্ভাবনাময় শিল্পোদ্যোক্তা চিহ্নিত করে তাদেরকে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ–সেবা- সহায়তা প্রদান করে আসছে । বিএসটিআই এর ফুড, মাইক্রোবায়োলজি, সিমেন্ট ও টেক্সটাইল ল্যাবরেটরি ভারতের National Accreditiation Board for Testing Laboratories (NABL) থেকে এক্রিডিটেশন লাভ করেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানীঃ

বিদ্যুৎখাতে বর্তমান মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈর্ষনীয় সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত তিন বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (গ্রীডকানেকটেড) ১০২৮৯ মেগাওয়াট থেকে ১৫৩৫১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৬৬৭৫ মেগাওয়াট। ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়ায় ৯০৩৬ মেগাওয়াট। ২০১৩ সালের মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩২১ কিলোওয়াট/আওয়ার হতে বর্তমানে ৪০৭ কিলোওয়াট/আওয়ারে উন্নীত হয়েছে। দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২৭০০+ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে এবং সাথে সাথে বিকল্প উৎস হিসেবে আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) চিহ্নিত করা হয়েছে। Floating Storage Re-gasification Unit (FSRU) স্থাপনের জন্য Excelerate Energy (EE) Singapore এর কারিগরি সহায়তায় দৈনিক ৫০০ এমেমসিএফডি (MMCFD) ক্ষমতাসম্পন্ন LNG TERMINAL স্থাপনের কাজ শেষ হলে ২০১৭ এ জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎযুক্তকরাসম্ভবহবে।

সড়ক-সেতু, রেল, নৌ ও স্থানীয় যোগাযোগ অবকাঠামোঃ

পদ্মা সেতুর মূল সেতু এখন প্রায় দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দুটি সার্ভিস এরিয়া, কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মান সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ প্রায় ৪০ ভাগ শেষ হয়েছে। মোট ৪১ টি স্পানের মধ্যে তিনটি ইতোমধ্যে প্রকল্প অঞ্চলে এসে পৌঁছেছে। মাওয়া পয়েন্টের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ, আর জাজিরা পয়েন্টের কাজ প্রায় ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মানের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্রগ্রামের কর্নফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মানে চীন সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ঢাকা- চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক উদ্বোধন হয়েছে গত জুলাই মাসে। একই সাথে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন মহাসড়কও সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্রগ্রামে ২২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬টি মহাসড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ থানচি- আলিকদম মহাসড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সিলেটে সুরমা নদীর উপর কাজীর বাজার সেতু, মাদারীপুরে সপ্তমবাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, শেখ রাসেল সেতু, সুনামগঞ্জে সুরমা সেতু, বিরুলিয়া ও আশুলিয়া সড়কে বিরুলিয়া সেতু, আড়িয়াল খা সেতু, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র সেতু,কলাতলী সেতুসহ বেশকিছু সেতুর নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর যানযট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূদরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও বিভাগ। এই ধারাবাহিকতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বাস র্যা পিড ট্রানজিট (BRT) নির্মানের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ লক্ষ ২১ হাজার ২৩৮ সেট ডিজিটাল নম্বরপ্লেট বিভিন্ন গাড়িতে সংযোজন করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২ লাখ ৪২৫টি ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স বিতরন করা হয়েছে। সড়ক। সেতু মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অনুন্নয়ন খাতের আওতায় সার্ফেসিং ব্যতীত ১২৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন,২৭১ কিলোমিটার কার্পেটিংসহ সীলকোট, ১ হাজার ৪৭৪ কিলোমিটার ওভারলে, ২৫৩ কিলোমিটার ডিবিএসটি,২১টি সেতু নির্মান/পুনঃনির্মান,১০৭টি কালভার্ট নির্মান/পুনঃনির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৫ সালে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-সিলেট-শিলং-গৌহাটি-ঢাকা রুটে বাস সার্ভিস চালু হয়। মতিঝিল-আব্দুল্লাহপুর রুটে এসি বাসে ই-টিকেটিং সিস্টেম চালু হয়েছে। বিআরটিসির আওতায় ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে গাবতলী ও মোহাম্মদপুরে ০২টি নতুন বাস ডিপো চালু হয়েছে।

২০১৬ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে সংগ্রহ করা কোচ দিয়ে একতা, দ্রুতযান ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হয়েছে। এ তিনটি ঢাকা-সিরাজগঞ্জ-ঢাকা, ঢাকা-দিনাজপুর-ঢাকা রুটে চলাচল করছে। এ ছাড়া লাল সবুজ রঙ্গের কোচ দিয়ে ৫টি ট্রেন চালু করা হয়েছে। এ নিয়ে নতুন ট্রেনের সংখ্যায় দাঁড়ালো সাতে।

দক্ষিনাঞ্চলের উন্নয়নে রেল যোগাযোগের বড় প্রকল্প পায়রা রেল লাইন হাতে নেওয়া হয়েছে। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। রেলপথের উন্নয়নে ১১টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নসহ লাকসাম-চিনকি আস্তানা ৬১ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মান প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিগন্যালিংসহ টঙ্গী-ভৈরববাজার পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মান প্রকল্পের ভৌত কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া ১০০টি মিটার গেজ ও ১৭০টি ব্রড গেজ যাত্রীবাহী গাড়ী সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশের তৃতীয় বাণিজ্যিক সমুদ্র বন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে পায়রা বন্দর, এক হাজার ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে এই সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জাহাজ ভেড়ার অবকাঠামো নির্মিত হয়ে যাওয়ায় আগেই ভিড়তে শুরু করেছে জাহাজ।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫০ মিটার পর্যন্ত ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারছে। এই সক্ষমতা বাড়াতে ‘বে-টার্মিনাল’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বে-টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সমুদ্র বন্দরের মতো বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পারদর্শী ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও শরীয়তপুরের মধ্যে এবং চাঁদপুরের মতলব ও নারায়নগঞ্জের মধ্যে দুটি নতুন রুটে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলঅধিদপ্তরের (LGED)বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৯ হাজার ১৩৫ কিলোমিটার ( উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম) সড়ক, ৪৩ হাজার ২৫০ মিটার ব্রীজ/কালভার্ট নির্মান করা হয়েছে। রাজধানীর যানজট সমস্যা নিরসনে LGED বর্তমানে ৭৭৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মগবাজার-মৌচাক সমন্বিত ফ্লাইওভার প্রকল্পের অধীন ৮.২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চারলেন বিশিষ্ট একটি ফ্লাইওভার নির্মানের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগঃ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে গত দু বছরে ৬৬৮.১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ কর্মসূচির আওতায় ২৪৩৯ জন ছাত্রছাত্রী/গবেষককে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে ২৪০০ মেগাওয়াটবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন লক্ষ্যে রাশিয়ান ফেডারেশন নির্ধারিত ঠিকাদারের সাথে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জেলা/উপজেলা পর্যায়ে ১৮,১৩০ টি সরকারি অফিসে কানেক্টিভিটি স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ,ভারত,নেপাল ও ভূটান আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে এবং বাংলাবান্ধা পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির লক্ষণীয় প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে আমূল পরিবর্তন আনার কাজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অরগনাইজেশন প্রবর্তিত ‘এসোসিও ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’ পেয়েছে বাংলাদেশ। আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৬ পুরস্কারে ভুষিত হন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা অক্টোবর ২০১৬ পর্যন্ত প্রায় ১২.০৭ কোটি এবং ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬.৬৯ কোটিতে পৌছেছে। টেলিডেনসিটি প্রায় ৮৩.০৯ শতাংশ এবং ইন্টারনেট ডেনসিটি প্রায় ৩৪.৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। টেলিডেনসিটি ও ইন্টারনেট ডেনসিটি যথাক্রমে ১০০ শতাংশ ও ৬৫ শতাংশে উন্নীত করতে জুলাই ২০১৬তে নীতিমালা গ্রহণ করেছে। ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে সারাদেশে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র ভেরিফিকেশনসহ সিম/রিম রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। সরকারের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। ডাক অধিদপ্তর মোবাইল মানি অর্ডার সার্ভিস ও ক্যাশকার্ড চালু করেছে। এ পর্যন্ত ৩৫০০ ডাকঘরে পোস্ট ই-সেন্টার চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড ঢাকা শহরের ১ লক্ষ পুরাতন ডিজিটাল টেলিফোন সিস্টেম প্রতিস্থাপনসহ ১ লক্ষ ৩৯ হাজার নতুন টেলিফোন সংযোগ নতুন টেলিফোন প্রদান করেছে। ৯৫০টি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে প্রায় ৭,১৫৪ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে এবং ৩০০টি ইউনিয়নকে অপটিক্যাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।

২০১৭ সালের মধ্যেই দেশে ৪-জি প্রযুক্তি চালু করা হবে। এর পাশাপাশি ভয়েসমেইল সেবাও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সমাজকল্যান ও সামাজিক নিরাপত্তা, ভূমিহীনে ভূমিদান এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়নঃ

দেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখ ২০ হাজার প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা ও শারিরীকভাবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে সরকার বিভিন্ন ধরনের ভাতা প্রদান করছে। পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ২৪,১৫,০০০ জন। দরিদ্র নারীদের ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য পল্লীমাতৃকেন্দ্র কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় ৩১৮টি কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ৮৩৪৯৬০। ২০১৬ সালে বয়স্ক ভাতার হার ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। উপকার ভোগীর সংখ্যা এখন ৩১.৫ লক্ষ। বিধবা ভাতার হারও ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, উপকার পাচ্ছেন ১১.৫ লক্ষ দুস্থ ও বিধবা নারী। ৭০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির ২০১৬-১৭ সালের বাজেট নির্ধারিত হয়েছে ৪৭.৮৮ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১০৫ জন শারীরিক প্রতিবন্ধীকে শনাক্ত করা হয়েছে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অধীনে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ১০০টি শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।

অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৭.৫০ লক্ষ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তাদের জন্য ভাতা বরাদ্দ হয়েছে ৬০০ টাকা হারে ৫৪০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আটটি উদ্যেগের একটি হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্প। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২য় পর্যায়ে ২৩৮টি প্রকল্পের অধীনে সুফলভোগীর সংখ্যা ২২,০৪০টি পরিবার। এই প্রকল্পের অধীনে ১ লক্ষ ২২ হাজার পরিবারের মধ্যে ৯৭ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ঃ

দেশের জনগনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আটটি উদ্ভাবনী উদ্যোগের অন্যতম ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লি উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘চরজীবিকায়ন কর্মসূচি-২’ ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি’, ‘পল্লি জনপদ (উন্নত আবাসন) সৃজন’, ‘ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অফ দি পুওরেস্ট (EEP)’, ‘মিল্কভিটার কার্যক্রম সম্প্রসারন’, বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্যবিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমী’ প্রতিষ্ঠাকরন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক খামারের সংখ্যা ১৮.৭২ লক্ষ। ডিজিটাল বাংলাদেশের অবদানে সুবিধাভোগীরা অনলাইনের মাধ্যমে ২৫৭৩ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার ৪৮৫টি উপজেলায় এ অনলাইন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিআরডিবির আওতায় এ পর্যন্ত ১,৯৯,৬৮৮টি সমিতি ও দল গঠন করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেচ কার্যক্রমের আওতায় সদস্যদের মাঝে ১৮,৪৬০টি গভীর নলকূপ, ৪৪,৫২৩টি অগভীর নলকূপ, ১৯,৪০৫টি শক্তিচালিত পাম্প এবং ২,৭৩,০০০টি হস্তচালিত পাম্প বিতরন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (BARD) ৮৮টি প্রশিক্ষন, অবহিতকরন এবং কর্মশালা সংগঠনের মাধ্যমে ৩,৬৫১ জন অংশগ্রহনকারীকে প্রশিক্ষন প্রদান করেছে। চর জীবিকায়ন কর্মসূচির আওতায় কুড়িগ্রাম,জামালপুর, গাইবান্ধা,বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার ২৮টি উপজেলার ২.৫০লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ এবং প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণঃ

২০১৬ সালে রেকর্ড ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের বলিষ্ঠ উদ্যোগে অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধ করা সম্ভব হয়েছে। অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধকল্পে বিদ্যমান টাস্কফোর্স কে আরও বেগবান করার ফলে বিগত বছরে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।সিঙ্গাপুরের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশানসেক্টরে নিরাপদ ও দক্ষ কর্মী প্রেরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো Sending Organization হিসেবে ১৪টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।জাপানেTechnical Intern প্রেরণের বিষয়ে International Manpower Development Organization, Japan এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মধ্যে MoUস্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সাথে এ সম্পর্কিত আর ৪টি টেকনিক্যাল এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে।“বিভিন্ন জেলায় ৩০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২৪টি জেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ৯ হাজার ৫শ ১৩ জন বিদেশগামী কর্মীকে ‘অভিবাসন ঋণ’ প্রদান করেছে। তা ছাড়া বিদেশ ফেরত প্রায় ১৫০ জন কর্মীকে পুনর্বাসন ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

আইনঃ

ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের আওতায় বিচার বিভাগকে ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পে ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা, বিচার ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনিক ও বিচার সংক্রান্ত কার্যক্রম অটোমেশন, ই-কোর্ট রুম স্থাপন এবং বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইসিটি সক্ষমতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন হবে।

এই প্রকল্পের কর্মপরিধিতে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচারের আওতায় বিচার ব্যবস্থার জন্য এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার উন্নয়ন, বিচার ব্যবস্থার জন্য এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সফটওয়্যারের উন্নয়ন, বিচার ব্যবস্থাধীন সব অফিস সংযুক্ত করে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) তৈরি, সুপ্রিম কোর্টে ডাটা-সেন্টার আপগ্রেডেশন, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার স্থাপন, দেশের ৬৪ জেলার ১ হাজার ৪০০টি কোর্ট রুমকে ই-কোর্টরুমে রূপান্তর, নিরবচ্ছিন্ন বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকা ছাড়া ৬৩ জেলায় ৬৩টি মাইক্রো ডাটা-সেন্টার স্থাপন এবং সুপ্রিম কোর্টের কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টারের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন। এছাড়া বিচারকদের ২০০০ ট্যাব বা ল্যাপটপ প্রদান, সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ডরুম অটোমেশন এবং পুরনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাইজ করা (পাইলট আকারে), আগের বিভিন্ন মামলার রেকর্ড এবং এ সংক্রান্ত রায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেমের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ডিজিটাল এভিডেন্স রেকর্ডিং ব্যবস্থা উন্নয়নও এই কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে।

পররাষ্ট্রঃ

২০১৬ সাল বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এই বছর চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরে আসেন। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ২৬টি চুক্তি সম্পাদন হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও বাংলাদেশ সফরে আসেন এবং জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ এ বছর গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (GFMD) এর নবম সম্মেলন আয়োজন করে। ১৩০ টি দেশের ৬০০ জন সরকারী কর্মকর্তা ও ৩০টি বেসরকারী সংস্থার ৬০ জন প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলন, গ্লোবাল উইম্যান লিডারস ফোরাম, জি৭ আউটরিচ সম্মেলন, আসেম সম্মেলন, বুদাপেস্ট ওয়াটার সামিট, ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিট, গ্লোবাল ফান্ড রিপ্লেনিশমেন্ট কনফারেন্স এ অংশগ্রহন করেন।

বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনে পরাক্রমশালী নারীদের তালিকায় ৩৬তম স্থান অধিকার করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফরচুন ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস গ্রেটেস্ট লিডার’ এর তালিকায় ১০ম স্থান অধিকার করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ফরেন পলিসি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ চিন্তাবিদদের একজন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং জলাবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবিলা ও বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখায় তাঁকে ‘ডিসিশানমেকার্স’ ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ১৩ জন চিন্তাবিদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ মর্যাদাপূর্ণWomen in Parliament(WIP) Global Forum Award 2015 পুরষ্কারেভূষিত হয়। ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ (Tree of Peace)পুরস্কার লাভ করেন। জাতিসংঘেরMillennium Development Goals (MDGs) অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৪ সালে Commonwealth Parliamentary Association (CPA) এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন, Inter-Parliamentary Union (IPU) এর প্রেসিডেন্ট, Comittee on the Elimination of Discrimination Against Woman (CEDAW) এর সদস্য, International Mobile Satellite Organizatio(IMSO) এর মহাপরিচালক পদে বাংলাদেশের প্রার্থীরা নির্ভাবিত হন। একই বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, UNICEF Executive Board, International Labour Organization (ILO) এর গভর্নিং বডি এবং ITU Council এর সদস্য নির্বাচিত হয়। ২০১৫ এ UNESCO বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটকে UNESCO Category II স্ট্যাতাস প্রদান করে এবং জাতিসংঘ সাধার পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে ঢাকায় BIMSTEC এর স্থায়ী সচিবালয় স্থাপিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে দুদেশের মধ্যে ২২টি উল্লেখযোগ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

পরিবেশ ও বনঃ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরুপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত Champions of The Earth পুরষ্কারে ভূষিত হন। সুন্দরবন এনভায়রনমেন্টাল এন্ড লাইভলিহুড সিকিউরিটি (SELS) প্রজেক্টের মাধ্যমে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়বর্ধক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকরার ফলে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছে। পরিবেশ দূষণকারী ৪০২টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৩৪ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা সহ দেশের উপকূলীয় জেলাসমূহে প্রায় ২ লক্ষ হেক্টর এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। ৫ লক্ষ পরিবারকে সামাজিক বনায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ৭২ শতাংশ শিল্প কারখানায় ইটিপি স্থাপন সহ ৮ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন এবং ১৫ লক্ষ উন্নত চুলা বিতরণ করা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নিজস্ব অর্থায়নে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।

তথ্যঃ

অধিকতর সেবা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে কার্যক্রম সম্পাদনের উদ্দেশ্য নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের জন্য ১৬ তলা বিশিষ্ট তথ্য ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সরকারী ভবনসমূহ নির্মাণ কার্যক্রম তরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য বিটিভি সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তথ্য কমিশন দুবছরে ৮৮৭৮ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ সাংবাদিক, সাব এডিটর, সাব ইন্সপেক্টর ও শিক্ষককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে এবং ৫৮৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫৫৭টি নিষ্পত্তি ক্রএছে। অবশিষ্ট ৩০টি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য প্রক্রিয়াধীন্ন রয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RAJUK) আবাসন সমস্যার সমাধানে উত্তরা আদর্শ আবাসিক শহর (৩য় পর্ব), পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক শহরে মধ্যবিত্তের জন্য প্রায় ৯০ হাজার এপার্টমেন্ট নির্মাণ করছে। এ ছাড়া জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যার নিরসন এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে বিক্রয়ের জন্য ৮৮৮১টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে। রাজধানীর কুড়াইল এলাকায় অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০০০ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পূর্বাচলে দেশের সর্বোচ্চ ১৩০ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রঃ

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমানা সংক্রান্ত Land Boundary Agreement 1974 (মুজিব ইন্দিরা চুক্তি) অনুসমর্থন দলিল বিনময়ের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে। ১ আগষ্ট ২০১৫ কে Appointed day হিসেবে নির্ধারণপূর্বক উভয় দেশের মধ্যে ভূমি বিনিময় সম্পন্ন হয়। ফলে অপদখলীয় ভূমিসহ বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডে অবস্থিত সকল ভারতীয় ছিটমহল বাংলাদেশের এবং ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত সকল বাংলাদেশী ছিটমহল ভারতের ভূখন্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কঠোর পরিশ্রমে দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসন হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর আধুনিকায়ন ও সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান ৫২৭টি বর্ডার অপারেশন পোষ্ট (বিওপি) এর অতিরিক্ত ৮০টি বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ বাংলাদেশি নাগরিকদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) এবং প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার মেশিন রিডেবল ভিসা (MRV) প্রদান করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনঃ

১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প এর প্রথম পর্যায়ের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমান প্রকল্পের আওতায় রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে উন্নীতকরণ, প্রস্থ ১৫০ থেকে ২০০ ফুটে উন্নীতকরণ, এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপন, ফায়ার ফাইটিং ভেহিকল ক্রয় এবং নাব্য যোগাযোগ যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক বেশ কিছু কাজ চলছে।

৪ হাজার ৩শ ২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে চট্টগ্রামস্থ চট্রগ্রাম মোটেল সৈকতের জমিতে নতুন পর্যটন মোটেল নির্মাণ এবং কক্সবাজারস্থ হোটেল শৈবালের সংস্কার সমাপ্ত হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের টার্মিনাল ১ ও ২, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল, ভি ভি আইপি কমপ্লেক্স, কন্ট্রোল টাওয়ার ভবন ও পাওয়ার হাউজ ফায়ার ডিটেকশন ও এলার্ম সিস্টেম স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে বাংলাদেশ বিমান সর্বমোট ২৭৬ কোটি টাকা নীট মুনাফা অর্জন করেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মুনাফার পরিমান ছিল ২৩৩.০৬ কোটি টাকা।

বস্ত্র ও পাটঃ

বস্ত্র ও পাট খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে তা নিরসনের জন্য পাট আইন ২০১৫, বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান আইন ২০১৫ ও বস্ত্রনীতি ২০১৫ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিবেশ বান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ এর আওতায় ধান,চাল,গম,ভুট্টা, সার ও চিনি মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূল্ক করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষাঃ

২০১৬ সালে নৌ প্রতিরক্ষায় যুক্ত হয়েছে সাবমেরিন। বানৌজা ‘নবযাত্রা’ ও বানৌজা ‘জয়যাত্রা’ নামের দুটি সাবমেরিন চীনের কাছ থেকে ক্রয় করেছে সরকার। সমুদ্রসীমা টহল দিতে ২০১৬ সালে একটি ফ্রিগেট ও একটি করভেট কমিশনপ্রাপ্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা চেতনায় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিএমএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ত হয়েছে। বিমান বাহিনী্ ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিএএফএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ যশোর শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। Upgradation of Agro-Metrological Services শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৭টি কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। Improvement of Digital Mapping, System of Survey of Bangladesh (Revised) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও মৌলভীবাজারে ৬টি Permanent GNSS/GPS Station, Digital Mapping Unit (DMU) স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সমগ্র দেশের Aerial Photography সম্পন্নকরণ সহ আন্তর্জাতিক সীমান্ত উপকূল ও সুন্দরবন এলাকার জন্য Sattelite Image ক্রয় করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কঃ

আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নিয়েছে এক অনন্য উদ্যোগ। যুদ্ধাহত ও ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মান করা হয়েছে বীর নিবাস। ইতোমধ্যে সিলেটে ৬২টি বীর নিবাস হস্তান্তর করা হয়েছে। 

সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা বর্তমানে ১০০০০ টাকা এবং ভাতাভোগীদের সংখ্যা ২ লক্ষে উন্নীত করা হয়েছে। জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে মাসিক ৩০০০০ টাকা এবং বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক ১৫০০০ টাকা, বীর উত্তমদের জন্য ২৫০০০ টাকা, বীর বিক্রমদের জন্য ২০০০০ টাকা হারে সম্মানী ভাতা চালু করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারবর্গের মাসিক রাষ্ট্রীয় ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করে পঙ্গুত্বের হার অনুযায়ী মাসিক সর্বনিম্ন ১৮০০০ টাকা এবং মাসিক সর্বোচ্চ ৪৮০০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়মিত ভাতা প্রদান একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। 

ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্পটিতে ২৯৭১টি বাসস্থান নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪৩টি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সকল উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৮১টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫৯টি স্মৃতিস্তভের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

ধর্মঃ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় দুই বছরে ১,৫০০০০টি শিশুকে প্রাক প্রাথমিক ও নৈতিকতা শিক্ষা, ১০,২৯০০০ জন কিশোর কিশোরীকে সহজ কুরআন ও নৈতিকতা শিক্ষা এবং ৩৮,৪০০ জন নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তিকে অক্ষরজ্ঞানদানসহ নৈতিকতা শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং দুঃস্থ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মোট ৪২,৯৮,৮৬০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে হজ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে সকল হজযাত্রীর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। প্রত্যেক হজযাত্রীকে এসএমএস এর মাধ্যমে হজ পূর্ব ৬টি নোটিফিকেশন প্রেরণ এবং মোবাইলের TVR সিস্টেমের মাধ্যমে হজ বুলেটিন ও তথ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

সংস্কৃতিঃ

জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৫ জন সুধীকে একুশে পদক ২০১৫ প্রদান করা হয়েছে। ২০১৪ এ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক এবং ২০১৫ এ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৫-১৭ মেয়াদে সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেসরকারি পাঠাগার অনুদান খাতে ১ হাজার ২৫টি পাঠাগারে ২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এছাড়া চারুশিল্প, থিয়েটার ইত্যাদি খাত থেকে ৪ কোটি ৮৬ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা দেশের ১,১৭৪টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান প্রদান করা হয়।

পানি সম্পদঃ

গত ৩ বছরে ১৯২.৪২ কিলোমিটার নদী খনন/ড্রেজিং সমাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাপিটাল (পাইলট) ড্রেজিং অফ রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় যমুনা নদীতে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় পরীক্ষামূলক ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাপ্ত ড্রেজড ম্যাটেরিয়ালস দ্বারা সিরাজগঞ্জ শহর সংলগ্ন নদী তীরবর্তী অংশে চারটি ক্রসবার নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার ভূমি স্থায়ীভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়। উপকূলীয় এলাকায় নতুন জেগে উঠা চরে সমাপ্তকৃত চর ডেভেলপমেন্ট ও সেটেলমেন্ট প্রকল্পসমূহের আওতায় ১৭,৫৩৩ ভূমিহীন পরিবারকে ১৪,৭৯২ হেক্টর জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়াঃ

এইবছর বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশের মেয়েরা এএফসি অনুর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত নারী ফুটবল চাপিম্পয়নশীপ প্রতিযোগিতায় আমাদের মেয়েরা এই প্রথমবারের মত রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। জাতীয় নারী ক্রিকেট দল জায়গা করে নিয়েছে আগামী বছরের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে।

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, দূরদর্শীতা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার দ্বারপ্রান্তে। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক দুই মেয়াদে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশ হিসাবে বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিতি পাবে- এলক্ষ্যে মহাজোট সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।